India-France Transit Visa Rule: ভারতীয়দের জন্য ফ্রান্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে ভারতীয় পাসপোর্টধারী ভ্রমণকারীদের ফ্রান্সের কোনও বিমানবন্দর দিয়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার সময় আর 'এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসা' গ্রহণ করার প্রয়োজন হবে না। ভারতে অবস্থিত ফ্রান্সের দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ এপ্রিল থেকেই সেই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। সাধারণ পাসপোর্ট থাকা কোনও ভারতীয়কে ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে না, যখন তাঁরা ফ্রান্সের কোনও বিমানবন্দরের ইন্টারন্যাশনাল জোন দিয়ে যাবেন। এতদিন অল্প সময়ের 'লে ওভারের' জন্যও ট্রানজিট ভিসা লাগত।
ট্রানজিট ভিসা কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

সাধারণত যখন কোনও যাত্রী এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার পথে তৃতীয় কোনও দেশে বিরতি নেন বা বিমান পরিবর্তন করেন, তখন সেই তৃতীয় দেশের পক্ষ থেকে একটি সাময়িক অনুমতির প্রয়োজন হয়, যাকে বলা হয় ট্রানজিট ভিসা। এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের ফ্রান্সের বিমানবন্দর হয়ে আমেরিকা, কানাডা বা অন্য কোনো দেশে যাওয়ার সময় এই ভিসাটি বাধ্যতামূলক ছিল। এটি সংগ্রহ করা যেমন সময়সাপেক্ষ ছিল, তেমনই এর জন্য আলাদা ফি এবং নথিপত্র জমা দিতে হতো। ফ্রান্স সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় পর্যটক এবং পেশাদার ভ্রমণকারীদের সেই ঝামেলা পুরোপুরি দূর হলো।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
ফ্রান্সের এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকল ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাঁরা ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক জোন (International Zone) ব্যবহার করে অন্য কোনও গন্তব্যে যাবেন, তাঁরা এই সুবিধা উপভোগ করবেন। তবে মনে রাখা জরুরি যে, এই সুবিধাটি শুধুমাত্র তখনই কার্যকর হবে যখন যাত্রী বিমানবন্দর থেকে বের হবেন না।
অর্থাৎ যদি আপনার কানেক্টিং ফ্লাইট ফ্রান্সের একই বিমানবন্দরের ইন্টারন্যাশনাল জোনের মধ্যে থাকে, তবেই আপনি ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনাকে এক বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে যেতে হয় অথবা আপনি যদি ফ্রান্সের ভেতরে প্রবেশ করতে চান, তবে আপনার প্রচলিত শেনজেন (Schengen) ভিসার প্রয়োজন হবে।
{{/usCountry}}অর্থাৎ যদি আপনার কানেক্টিং ফ্লাইট ফ্রান্সের একই বিমানবন্দরের ইন্টারন্যাশনাল জোনের মধ্যে থাকে, তবেই আপনি ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনাকে এক বিমানবন্দর থেকে অন্য বিমানবন্দরে যেতে হয় অথবা আপনি যদি ফ্রান্সের ভেতরে প্রবেশ করতে চান, তবে আপনার প্রচলিত শেনজেন (Schengen) ভিসার প্রয়োজন হবে।
{{/usCountry}}কেন এই পরিবর্তন?
ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত গভীর। অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা এবং পর্যটন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলো এখন ভারতীয় পর্যটকদের একটি বড় বাজার হিসেবে বিবেচনা করে। ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে ফ্রান্স মূলত আরও বেশি সংখ্যক ভারতীয় যাত্রীকে বিমান সংস্থা এবং বিমানবন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করছে।
ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ
১) আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ আছে কিনা, দেখে নিন।
২) আপনার চূড়ান্ত গন্তব্য দেশের (যেমন আমেরিকা বা ব্রিটেন) বৈধ ভিসা বা প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করুন।
৩) আপনার টিকিট বুকিং করার সময় দেখে নিন সেটি 'সিঙ্গেল পিএনআর' (Single PNR) কিনা, কারণ অনেক সময় আলাদা টিকিট থাকলে ইমিগ্রেশন পার হতে সমস্যা হতে পারে।