Indian restaurant owner: 'দেশে ফিরে যান!' ৩০ বছর পরে জাপান ছাড়ার নির্দেশ ভারতীয় রেস্তোরাঁ মালিককে
Indian restaurant owner: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এই ভিসার আবেদন ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। জানা গেছে, মাসিক আবেদন সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে নেমে মাত্র ৭০-এ দাঁড়িয়েছে।
Indian restaurant owner: প্রকাশ্যে জাপানে বসবাসরত এক ভারতীয় রেস্তোরাঁ মালিক কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কারণ, সে দেশের কর্তৃপক্ষ তাঁর 'বিজনেস ম্যানেজার ভিসা'র নবায়ন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তিনি ১৮ বছর ধরে পরিচালিত রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। মণীশ কুমার নামের ওই ব্যক্তি জাপানের সাইতামা প্রিফেকচারে একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁর মালিক। তিনি জানান, জাপানের কঠোর নতুন অভিবাসন নীতির আওতায় দেশটির ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি (আইএসএ) সম্প্রতি তাঁর আবেদন বাতিল করে দিয়েছে।

টোকিওতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মণীশ কুমার বলেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি ভেঙে পড়েছেন এবং জাপানে তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি বলেন, 'দুই সপ্তাহ আগে আইএসএ আমাকে বলেছে নিজের দেশে ফিরে যেতে। আমার সন্তানদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জাপানে। তারা শুধু জাপানি ভাষাই বোঝে, তাদের সব বন্ধুই জাপানি। অথচ আমাদের বলা হচ্ছে ভারতে ফিরে যেতে। আমি এখন কী করবো?' মণীশ কুমারের ঘটনা এখন জাপানে ছোট বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারণ গত বছর জাপান তাদের 'বিজনেস ম্যানেজার ভিসা' ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এই ভিসার আবেদন ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। জানা গেছে, মাসিক আবেদন সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে নেমে মাত্র ৭০-এ দাঁড়িয়েছে। জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেকে প্রকৃত ব্যবসা পরিচালনা না করেও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সহজ উপায় হিসেবে এই ভিসা ব্যবহার করছিলেন। তাই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই কঠোরতার শিকার হচ্ছেন প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।
জাপানের 'বিজনেস ম্যানেজার ভিসা'র নিয়মে কী পরিবর্তন করা হয়েছে?
জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাশী বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য জাপান যোগ্যতার শর্তাবলী কঠোরভাবে কড়াকড়ি করেছে। ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ লক্ষ ইয়েন (প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ইয়েন (প্রায় ২ কোটি টাকা) করা হয়েছে। ফলে ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য যোগ্যতা অর্জন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
পূর্ণকালীন কর্মী বাধ্যতামূলক
এখন আবেদনকারীদের অন্তত একজন পূর্ণকালীন স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করতে হবে। আগে মূলধনের শর্ত পূরণ হলে কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক ছিল না।
জাপানি ভাষাজ্ঞানের শর্ত
কেপিএমজির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারী বা তার কোনও পূর্ণকালীন কর্মীর জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে, সাধারণত জেএলপিটি এন২ পর্যায়ের।
অভিজ্ঞতার কড়াকড়ি
বিদেশি আবেদনকারীদের এখন ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার প্রমাণ দেখাতে হবে।
ব্যবসা পরিকল্পনার কঠোর যাচাই
এখন ব্যবসা পরিকল্পনায় পেশাদার অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি, কর সংক্রান্ত নথি ও অফিসের বৈধতা নিয়ে বাড়তি তদন্ত করা হচ্ছে। বাড়ি থেকে পরিচালিত অফিস আর গ্রহণযোগ্য নয় বলেও জানা গেছে।
যদিও জাপান সরকার বলছে, অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সংস্কার প্রয়োজন, তবে অনেক বিদেশি উদ্যোক্তার আশঙ্কা-এতে বছরের পর বছর ধরে জাপানে চলা ছোট ব্যবসাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
E-Paper

