US Layoff effect: ‘৬০ দিনের মধ্যে কাজ খুঁজুন...,' মার্কিন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেদার ছাঁটাই, চরম অনিশ্চয়তায় ভারতীয়রা
US Layoff effect: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বেশিরভাগ ভারতীয় এইচ-১বি ভিসায় কাজ করেন। যা সরাসরি তাঁদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই চাকরি হারানোর পর থেকেই সময় গোনা শুরু হয়।
US Layoff effect: কেরিয়ারে উচ্চাকাঙ্খা ও অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন বহু ভারতীয়। বছরের পর বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এরকম কর্মরত ভারতীয়র সংখ্যা প্রচুর। বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করছেন অনেকে। এমনকী, বিভিন্ন সংস্থার বড় পদেও রয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তাঁরা সংসার পেতেছেন। বাড়ি কিনেছেন। বিদেশেই থিতু হয়েছেন। কিন্তু, একটি ইমেইল যেন ওলটপালট হয়ে গিয়েছে তাঁদের সেই চেনা জীবন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মী ছাঁটাইয়ের ধুম বেড়েছে। যা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের মধ্যে আরও একটা পুরোনো ভয়কেও জাগিয়ে তুলছে। এই চাকরি হারানো মানে কেবল মাসকাবারী মোটা মাইনে বন্ধ হওয়া নয়; এর চেয়েও বড় সত্য হলো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অধিকারটুকুও রাতারাতি হারিয়ে ফেলা। সেক্ষেত্রে কী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হতে চলেছে ভারতীয়দের জন্য? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে ছাঁটাইয়ের নতুন সুনামি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-কেন্দ্রিক পুনর্গঠনের পথে হেঁটেছে একাধিক বড় প্রযুক্তি সংস্থা। মেটা প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বুধবার। একাধিকবার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর অ্যামাজনও তাদের দল ছোট করা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে লিঙ্কডইনও গত কয়েক মাসে একাধিক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর এখন একমাত্র লক্ষ্য, খরচ কমানো এবং মানুষের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর পরিকাঠামো গড়ে তোলা। আর এই করপোরেট লোভের বলি হচ্ছেন ভারতীয়রা।
ভারতীয় চাকুরিজীবীদের সময় কমছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বেশিরভাগ ভারতীয় এইচ-১বি ভিসায় কাজ করেন। যা সরাসরি তাঁদের নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকে। তাই চাকরি হারানোর পর থেকেই সময় গোনা শুরু হয়। মার্কিন অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসায় স্পনসর করতে ইচ্ছুক এমন অন্য নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করার জন্য তাঁরা সাধারণত মাত্র ৬০ দিন সময় পান। যদি দুই মাসের মধ্যে চাকরি খুঁজে না পান, তাহলে দেশ ছাড়তে হবে। ফলে, গোলাপী চিঠি হাতে পাওয়া মাত্রই এই কর্মীদের জীবনে শুরু হয়ে যায় সময়ের বিরুদ্ধে এক নির্মম ও শ্বাসরুদ্ধকর দৌড়। অনেকেই বছরের পর বছর ধরে স্থায়ী নাগরিকত্বের অপেক্ষায়। কারও সন্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছে, কেউ আবার বাড়ি কিনে স্থায়ী ভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন। আচমকা চাকরি চলে যাওয়ায় সব হিসেব ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। শুধু চাকরি নয়, অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে সন্তানের পড়াশোনা, স্বাস্থ্যবিমা, গৃহঋণ, আদতে গোটা পরিবার। সুরক্ষিত একটা পরিবার চোখের পলকে এসে দাঁড়ায় খাদের কিনারায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকেই তড়িঘড়ি করে পর্যটক ভিসার আবেদন করছেন, যাতে অন্তত চাকরি খোঁজার জন্য আরও কয়েকটা দিন আমেরিকায় টিকে থাকা যায়।
৬০-দিনের এইচ-১বি নিয়মটি কী?
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস দ্বারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া এইচ-১বি কর্মীরা সাধারণত তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার জন্য ৬০ দিনের একটি সময় পান। এই সময়ের মধ্যে তারা এমন অন্য নিয়োগকর্তার সন্ধান করতে পারেন যিনি তাঁদের ভিসার স্পনসর করতে ইচ্ছুক। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ৬০ দিনের এই সময়কাল সাধারণত কর্মচারীর শেষ কর্মদিবস থেকে শুরু হয়। শেষ বেতন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার দিন থেকে নয়। এদিকে, নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পাওয়া প্রায়শই সহজ হয় না। চাকরির ইন্টারভিউতে সময় লাগে, ভিসা স্থানান্তরের জন্য কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। সাধারণত আইনজীবীরা ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ফর্ম আই-৫৩৯ পূরণ করে সাময়িকভাবে বি-১ বা বি-২ ভিজিটর ভিসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিকল্পটি এখনও আইনত উপলব্ধ রয়েছে। তবে, সম্প্রতি জানা গিয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখন এই ধরনের আবেদনপত্রগুলো আগের থেকে অনেক বেশি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। কর্মীদের মধ্যে এই আশঙ্কা বেড়েছে যে বিকল্প পরিকল্পনাগুলোও হয়তো আর সেভাবে স্বস্তি দেবে না। তাই উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এআই আতঙ্ক
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আতঙ্ক। সাধারণ কোডিং বা টেকনিক্যাল সাপোর্টের মতো কাজগুলো এখন চটজলদি করে দিচ্ছে এআই। ফলে কর্মীরা বুঝতেই পারছেন, এই মন্দা সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী। একদা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করা হতো সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ আর বিলাসবহুল জীবনের শেষ ঠিকানা, আজ সেখানেই ফাটল ধরেছে। ভারতীয় আইটি কর্মীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্ক চাকরি হারানো নয়; বরং কয়েকটা সপ্তাহের মধ্যে তল্পিতল্পা গুটিয়ে, এক জীবনের উপার্জনকে এক লহমায় ফেলে রেখে দেশে ফিরে আসা।
E-Paper

