India-Russia defense pact: ৩০০০ সেনা, ১০ যুদ্ধবিমান, ৫ রণতরী! ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঘুম উড়বে শত্রুদের

India-Russia defense pact: বিশ্ব রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে ভারত-রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কেবল কৌশলগত সম্পর্ককেই শক্তিশালী করছে না, বরং পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও উঠে আসছে।

Published on: Apr 21, 2026, 01:26:54 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India-Russia defense pact: গোটা বিশ্বে যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ, ব্যাপক অস্থিরতার মধ্যেও নিজেদের বন্ধুত্ব অটুট রেখেছে ভারত এবং রাশিয়া। প্রয়োজনে একে অপরের সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়ে এই দুই দেশ। তার প্রমাণ মিলেছে বিগত দিনগুলিতে। এরমধ্যেই গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে একে অপরের ভূখণ্ডে সর্বোচ্চ ৩,০০০ সেনা, সীমিত সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা যাবে। এই চুক্তিটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে।

ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঘুম উড়বে শত্রুদের
ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঘুম উড়বে শত্রুদের

রাশিয়ার অফিসিয়াল আইনি তথ্য পোর্টালে সম্প্রতি প্রকাশিত এই দলিল অনুসারে, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তিটি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয় এবং চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি অনুমোদন করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, সর্বাধিক ৩,০০০ সেনা, ১০টি সামরিক বিমান এবং ৫টি যুদ্ধজাহাজ একে অপরের দেশে মোতায়েন করা যাবে। এই ব্যবস্থা পাঁচ বছরের জন্য বৈধ, এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে আরও পাঁচ বছর বাড়ানো যেতে পারে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে 'ইন্ডো-রাশিয়ান রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিকস অ্যাগ্রিমেন্ট' বা RELOS-এর আওতায়। রুশ সংসদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই চুক্তির লক্ষ্য ও তাৎপর্য

এই চুক্তি দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং অপারেশনাল সহযোগিতা সহজ করবে। এটি শুধু সেনা মোতায়েনের অনুমতি দেয় না, বরং যৌথ সামরিক অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, মানবিক সাহায্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয় মোকাবিলায় সহযোগিতার একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো তৈরি করে। সেনা, জাহাজ ও বিমানের লজিস্টিক, প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল সাপোর্টের বিস্তারিত নিয়মাবলীও এতে স্পষ্ট করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশ একে অপরের সামরিক ঘাঁটি-বিমানঘাঁটি ও বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ভারত রাশিয়ার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের ঘাঁটিগুলিতে প্রবেশাধিকার পাবে, অন্যদিকে রাশিয়াও ভারতের সামরিক অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারবে। বিশ্ব রাজনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে ভারত-রাশিয়ার এই পদক্ষেপ কেবল কৌশলগত সম্পর্ককেই শক্তিশালী করছে না, বরং পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও উঠে আসছে। বিশ্বের বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপকে অনেকে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখছেন।