Indra Nooyi on India: 'ভারতে থেকে পেপসিকোর সিইও হওয়া সম্ভব ছিল না… চিনে জীবন বেশি সহজ', ইন্দ্রা নুয়ির মন্তব্যে বিতর্ক
Indra Nooyi on India: আমেরিকার হুভার ইনস্টিটিউশনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রা ভারতের কর্পোরেট সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে চিনের পরিকাঠামো, শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন মডেলের প্রশংসা করেন।
Indra Nooyi on India: ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রাক্তন পেপসিকো সিইও ইন্দ্রা নুয়ির সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের কর্পোরেট সংস্কৃতি, সামাজিক বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে খোলামেলা সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে চিনের পরিকাঠামো, শৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন মডেলের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে না যেতেন, তাহলে ভারতের মাটিতে থেকে কখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংস্থার সিইও হতে পারতেন না।

নুয়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্যতাভিত্তিক বা ‘মেরিটোক্রেটিক’ ব্যবস্থা তাঁকে নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ দিয়েছে। একজন অভিবাসী হয়েও তিনি একটি বহুজাতিক সংস্থার সর্বোচ্চ পদে পৌঁছাতে পেরেছেন, যা তাঁর মতে বিশ্বের খুব কম দেশেই সম্ভব। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ভারতে থাকলে আমি কখনও পেপসিকোর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও হতে পারতাম না।'
ভারত ও চিনের তুলনা করতে গিয়ে নুয়ি বলেন, একজন পর্যটকের দৃষ্টিতে চিন অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল এবং সহজে চলাচলের উপযোগী। অন্যদিকে ভারতের বৈচিত্র্য ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ অনেকের কাছে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাঁর কথায়, 'যাঁরা পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত জীবন পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে ভারত কঠিন মনে হবে। তবে ভারতের সৌন্দর্যই লুকিয়ে রয়েছে তার এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে।' উদাহরণ হিসেবে তিনি রাস্তায় যানবাহনের মাঝখানে গরুর চলাচলের প্রসঙ্গও তোলেন। যদিও তাঁর মতে, ভারতীয়দের বিশেষ দক্ষতা হল এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই নিজেদের পথ খুঁজে নেওয়া।
নিজের শৈশবের প্রসঙ্গ টেনে নুয়ি জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী ষাট ও সত্তরের দশকের ভারতে নারীদের সামাজিক অবস্থান খুব শক্তিশালী ছিল না। অধিকাংশ নারীই গৃহবন্দি জীবন কাটাতেন। তবে তাঁর পরিবার তাঁকে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। বিশেষ করে তাঁর বাবা ও দাদার উৎসাহই তাঁকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিল।
ভারত ও চিনের উন্নয়ন মডেলের তুলনাতেও নিজের মতামত তুলে ধরেন নুয়ি। তাঁর মতে, চিনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা দ্রুত উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রত্যেকের মতামতের গুরুত্ব থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়নের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, গণতন্ত্রই ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব, যা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় অনুপস্থিত।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়েও আশাবাদী নুয়ি। তাঁর মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগত অংশীদার। ভারতের বিপুল তরুণ জনসংখ্যা, ইংরেজিভাষী দক্ষ কর্মী এবং সফটওয়্যার, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি দুই দেশের নেতৃত্বকে অহং ত্যাগ করে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রসঙ্গ টেনে নুয়ি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের নিরাপত্তা শুধু ভারতের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, কঠিন প্রতিবেশী পরিবেশের মধ্যে ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইন্দ্রা নুয়ির এই মন্তব্যগুলি ইতিমধ্যেই ভারতীয় রাজনৈতিক ও কর্পোরেট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


