Middle East Conflict: যুদ্ধে ইতি! ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা ইজরায়েলের, কড়া হুঁশিয়ারি লেবাননকে
Middle East Conflict: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'তারা ভেবেছিল যে লেবানন এবং ইরান থেকে ইজরায়েলে আঘাত হানা হবে এবং আমরা কোনও সাড়া দেবো না। কিন্তু এমটা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। অন্তত যতদিন আমি আছি, ততদিন। শত্রুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইজরায়েলের আছে এবং আমি দৃঢ়ভাবে এ অধিকারের সমর্থক।'
Middle East Conflict: সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হয় যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। তবে সোমবার তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ সামরিক অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এবার সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ইজরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপ ও মধ্যস্থতার পর দুই দেশই ‘আপাতত’ শান্ত থাকার ঘোষণা করলেও মধ্যপ্রাচ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সময় সোমবার রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন, তাঁর দেশ ‘এই মুহূর্তে‘ হামলা স্থগিত রেখেছে। তবে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই এখনও শেষ হয়ে যায়নি। নেতানিয়াহু বলেন, 'এই মুহূর্ত থেকে, ইরানকে লক্ষ্য করে গোলাগুলি স্থগিত করা হলো। কারণ, আমরা তেহরানের সন্ত্রাসী সরকারকে আঘাত করার পর ইরান আমাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ বন্ধ করেছে। যদি ইরানের সন্ত্রাসী সরকার ফের আমাদের হামলা করার মতো ভুল করে, আমরা দৃঢ়ভাবে তার জবাব দেবো।' তিনি আরও বলেন, ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল যুদ্ধে লেবাননকে টেনে এনে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে ইরান। লেবাননে হিজবুল্লাহ ইরানের প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'তারা ভেবেছিল যে লেবানন এবং ইরান থেকে ইজরায়েলে আঘাত হানা হবে এবং আমরা কোনও সাড়া দেবো না। কিন্তু এমটা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। অন্তত যতদিন আমি আছি, ততদিন। শত্রুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইজরায়েলের আছে এবং আমি দৃঢ়ভাবে এ অধিকারের সমর্থক।' এর আগে সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ একটি বিবৃতি প্রচার করেছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, 'ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর যাবতীয় সামরিক কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হল।' অভিযান থামানোর ঘোষণা করলেও তেহরান তার অবস্থানে অনড়। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণ অংশে ইজরায়েলি হামলাকে তারা তেহরানের সাথে হওয়া বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইজরায়েল যদি লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে ইরান যে জবাব দেবে, তা হবে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী।
এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে বার্তা দিয়ে দুই দেশকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চলমান সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন। পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প এও বলেন যে, ইরান ও ইজরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি করার চেষ্টা করছে। এরপরই ইরান ও ইজরায়েলের হামলা আপাতত বন্ধের ওই ঘোষণা এল। বলে রাখা প্রয়োজন, রবিবার বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকণ্ঠে ইজরায়েলি বিমান হামলার পরই নতুন করে এই উত্তেজনার শুরু হয়। পুরো রবিবার জুড়ে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের চলমান পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা। ইরান বারবার দাবি করে আসছে যে, লেবাননের নিরাপত্তা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই আবহে সোমবারের এই ঘোষণা অঞ্চলটিতে কিছুটা স্বস্তি আনলেও, দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
E-Paper

