US President Donald Trump: আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান! ইরান আপাতত হামলা স্থগিত US-র, যুদ্ধ থামবে কী?

US President Donald Trump: ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শুক্রবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার প্রত্যাশা করেছিল। 

Published on: Jul 26, 2026, 13:09:28 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US President Donald Trump: টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে প্রতিদিন হামলা চালানোর পর নতুন করে কোনও আক্রমণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও সময় দিতে এবং পরিস্থিতি নতুন করে মূল্যায়নের লক্ষ্যেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও প্রয়োজনে হামলা আরও জোরদারের প্রস্তুতি বজায় রেখেছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস।'

ইরান আপাতত হামলা স্থগিত US-র, যুদ্ধ থামবে কী? (AFP)
ইরান আপাতত হামলা স্থগিত US-র, যুদ্ধ থামবে কী? (AFP)

'অ্যাক্সিওস' প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগের টানা ১৩ দিন প্রতিদিন হামলার অনুমোদন দিলেও গত শুক্রবারের হামলার পরিকল্পনায় ট্রাম্প অনুমোদন দেননি। তবে এই বিরতি সাময়িক নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত- তা এখনও স্পষ্ট নয়। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধে না জড়িয়ে বর্তমান পর্যায়ের হামলা তার বাস্তব সীমায় পৌঁছেছে বলেও তিনি মনে করছেন। যদিও সম্ভাব্য সংঘাত আরও বাড়লে তা মোকাবিলার প্রস্তুতি মার্কিন সেনাবাহিনী অব্যাহত রেখেছে। তবে ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত হামলা আরও জোরদারের কোনও নির্দেশ দেননি।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, চাইলে তিনি হামলা চালিয়ে যেতে পারেন বা আরও তীব্র করতে পারেন। এমনকি ‘তাদের যা কিছু আছে, সব ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, ‘আরও বুদ্ধিমানের কাজ হবে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন (ইরানিদের সঙ্গে) কথা বলছি। আমার মনে হয়, দিন যত যাচ্ছে তারা ততই আন্তরিক হচ্ছে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিতে পারি। তবে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ পরে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস ইরান এখনও কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়। তবে ‘আমি তাদের কথা শুনতে প্রস্তুত।’

ওমানের পদক্ষেপ

ট্রাম্পের হামলা স্থগিতের নির্দেশ আসে ওমানের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার (২৪ জুলাই) তেহরানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর। প্রতিনিধিদলটি হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দুটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সপ্তাহান্তের মধ্যেই ওমান ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রহণ করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই নিতে হবে।

ইজরায়েল কী করছে?

ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শুক্রবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার প্রত্যাশা করেছিল। এমনকী তারা সম্ভাব্য একটি ব্যাপক মার্কিন হামলার প্রস্তুতিও নিয়েছিল, যা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা না থাকায় ইজরায়েলি মন্ত্রিসভা ও সামরিক বাহিনী বড় ধরনের বোমা হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখে। তবে, শুক্রবার রাতে তারা জানতে পারেন যে ট্রাম্প নতুন হামলার অনুমোদন দেননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইজরায়েল এই যুদ্ধ শুরু করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধে ইরানের পদক্ষেপের জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন করে হামলা শুরু করে, তাতে ইজরায়েলের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো অনুপস্থিত ছিল। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হওয়া এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় এই সংঘাত দেখা দেয়।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল সিং বলেন, ইরানিরা বুঝতে পারছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, কারণ ইজরায়েলও লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত ইজরায়েলের অনুপস্থিতি ইরানিদের কাছে এই সংকেতও দিতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে সীমিত রাখতে চায়। জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক পদে থাকা সিং অবশ্য এই সাময়িক হামলা বিরতি নিয়ে চূড়ান্ত উপসংহারে পৌঁছাতে নারাজ। তিনি বলেন, এটি যদি কয়েকদিনের দীর্ঘ বিরতিতে পরিণত হয়, তবে তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে। তবে এটি অভিযান পরিচালনার বিরতি নাকি পর্দার অন্তরালে কূটনীতির সুযোগ দেওয়ার জন্য বিরতি, তা বোঝা কঠিন।

সৌদি আরবে হামলা হুথিদের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবুতে অবস্থিত দুটি আরামকো তেল স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে। হুদেইদা বন্দর এবং কামরান দ্বীপে চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে শনিবারের এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনে অবরোধ এবং সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাবে বাবাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, এই নগ্ন ও অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী দুটি সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে জিজানের সংবেদনশীল আরামকো স্থাপনা এবং দ্বিতীয় অভিযানে একাধিক ব্যালিস্টিক, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে ইয়ানবুর সংবেদনশীল আরামকো স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।