Iran-US Talks: আমেরিকাকে বসিয়ে রেখে হল ত্যাগ ইরানিদের, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন শেহবাজ-মুনিররা, প্রেস্টিজ পাংচার পাকিস্তানের

সুইৎজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হয়েছিল পাকিস্তান ও কাতারের উপস্থিতিতে। প্রায় ৮০ মিনিটের বৈঠকের পর যখন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা, তখনই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।

Published on: Jun 22, 2026, 08:44:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সুইৎজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে বড় কূটনৈতিক সাফল্যের আশা করেছিল পাকিস্তান। কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ায় ইসলামাবাদ মনে করেছিল, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই বৈঠকে। কিন্তু বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। যার জেরে কার্যত প্রেস্টিজ পাংচার হয়ে যায় শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনিরদের।

বৈঠক শেষ না করেই ইরানি প্রতিনিধিরা হল ত্যাগ করেন। বিষয়টি লক্ষ্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি এরপর গিয়ে কথা বলেন মুনির এবং শেহবাজের সঙ্গে। (AFP)
বৈঠক শেষ না করেই ইরানি প্রতিনিধিরা হল ত্যাগ করেন। বিষয়টি লক্ষ্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি এরপর গিয়ে কথা বলেন মুনির এবং শেহবাজের সঙ্গে। (AFP)

সুইৎজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হয়েছিল পাকিস্তান ও কাতারের উপস্থিতিতে। প্রায় ৮০ মিনিটের বৈঠকের পর যখন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা, তখনই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে হুমকি দেন এবং হরমুজ় প্রণালী নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। এমনকি সুইৎজারল্যান্ডে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা ছুড়ে দেন তিনি।

এরপরই ইরানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর ছড়ায় যে তেহরানের প্রতিনিধিরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। যদিও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে প্রথম পর্বেই আলোচনার গতি থমকে যাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যে মুহূর্তে আব্বাস আরাগচিরা বৈঠকস্থল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, সেই সময়কার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, শেহবাজের সঙ্গে কথা বলছেন আব্বাস। এরপর ইরানি প্রতিনিধিরা হল ত্যাগ করেন। বিষয়টি লক্ষ্য করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি এরপর গিয়ে কথা বলেন মুনির এবং শেহবাজের সঙ্গে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে পাকিস্তান। কারণ, ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আমেরিকা ও ইরানের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে আলোচনার সেতুবন্ধন তৈরি করতে তাই তারা বদ্ধপরিরকর। কিন্তু বৈঠক শুরুর আগেই যে বিশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করার কথা ছিল, তা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মধ্যস্থতাকারীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল আলোচনার পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখা। সেখানে বৈঠক চলাকালীনই যদি এক পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং অন্য পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে আলোচনার টেবিল ছেড়ে বেরিয়ে যায়, তাহলে মধ্যস্থতার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তির আরেকটি কারণ হল, এই বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। সরকারপন্থী মহলের দাবি ছিল, পাকিস্তান আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কিন্তু বৈঠকের প্রথম দিনেই অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সেই প্রচারে বড় ধাক্কা লেগেছে। সুইৎজারল্যান্ড বৈঠকে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাওয়া পাকিস্তানের প্রেস্টিজ ফের পাংচার হয়ে যায় বিশ্বমঞ্চে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More