US-Iran War: ২৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ফেরত, ভারত মহাসাগরে সংঘাত! ট্রাম্পের মুখোমুখি বসার জল্পনা উড়িয়ে কড়া শর্ত ইরানের

US-Iran War: মূলত ইরানের আটকে রাখা ২৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকা) সম্পদ মুক্ত করা নিয়ে দুই দেশের আলোচনায় একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। মহসিন রেজায়েইয়ের দাবি, একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই পারেন এই অচলাবস্থা ভাঙতে, বল এখন তাঁর কোর্টেই।

Published on: Jun 7, 2026, 20:11:56 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US-Iran War: দেখতে দেখতে তিন মাস পেরিয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের। শান্তি বৈঠকের পরও মেলেনি স্থায়ী রফা। আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও যে কোনও মুহূর্তে সংঘর্ষ ফের পুরোদমে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এহেন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শোনা গিয়েছিল, জটিলতা কাটাতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। কিন্তু সেই গুঞ্জন সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিল তেহরান। অদূর ভবিষ্যতে তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি বসার জল্পনা উড়িয়ে কড়া শর্ত ইরানের
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি বসার জল্পনা উড়িয়ে কড়া শর্ত ইরানের

শুক্রবারই হোয়াই হাউস সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোজতবা খামেনেই-এর সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘ওঁর সঙ্গে আমার দেখা হওয়া সম্ভব। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই।’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর থেকেই দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক নিয়ে জল্পনা গাঢ় হতে থাকে ওয়াকিবহাল মহলে। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মোজতবা খামেনেইয়ের সামরিক পরামর্শদাতা মহসিন রেজায়েই পরিষ্কার জানিয়েছেন, ট্রাম্প-খামেনেই সাক্ষাতের কোনও সম্ভাবনাই নেই। ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওটা কখনও হবে না। আমরা এখন সমঝোতার প্রথম পর্যায়ে আছি এবং ট্রাম্প তাতে অচলাবস্থা তৈরি করেছেন। তাই ওটা হবে না।’ সেই সঙ্গেই তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর।

মূলত ইরানের আটকে রাখা ২৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২.২৮ লক্ষ কোটি টাকা) সম্পদ মুক্ত করা নিয়ে দুই দেশের আলোচনায় একটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। মহসিন রেজায়েইয়ের দাবি, একমাত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পই পারেন এই অচলাবস্থা ভাঙতে, বল এখন তাঁর কোর্টেই। মার্কিন প্রশাসনকে নিশানা করে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'ট্রাম্প যদি সমঝোতা চান, তাহলে ওই ২৪০০ কোটি ডলারের বিশ্বাসের পরীক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ করতে হবে। তাহলেই আমাদের পক্ষে ওদের বিশ্বাস করা সম্ভব হবে এবং অচলাবস্থাও কাটবে। ওটা আমাদের নিজস্ব অর্থ, কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নয়।' সূত্রের খবর, ইরানের এই সম্পদ মুক্ত করা যে সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত, তা আগেই জানা গিয়েছিল। প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য প্রথম ধাপে ১২০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ইরান। চুক্তি হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাকি সম্পদও ছাড়তে হবে তেহরানকে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও সেই শর্তে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না।

ভারত মহাসাগরে সংঘাত?

মহসিন রেজায়েই সতর্ক করে বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি নতুন করে সংঘাত শুরু করে, তবে ইরান এই যুদ্ধকে পারস্য উপসাগরের বাইরেও টেনে নিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরেও সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, 'আমরা এখনও পর্যন্ত যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছি, সেগুলোর বাইরে অন্য ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেব।' তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে 'যুদ্ধের সম্ভাবনা কম।'

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের পূর্বতন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল। সেই হামলাতেই গুরুতর জখম হন তাঁর পুত্র মোজতবা। পরবর্তীতে মোজতবাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে নির্বাচিত করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনি আদেও জীবিত কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তবে রহস্যের অন্তরালে থাকলেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার পিছনের সমঝোতার আলোচনায় তিনি অত্যন্ত সক্রিয় বলেই দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। এখন দেখার, তেহরানের এই ২৪ বিলিয়ন ডলারের শর্ত এবং বৈঠক বাতিলের জবাবে ওয়াশিংটন কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।