Jamaat e Islami Hindu Candidate: 'পুজো মণ্ডপ দেখে রাখলাম, তাও ভোট দিল না', হেরে বিলাপ জামাতের হিন্দু প্রার্থীর

ভোটে হারা কৃষ্ণ নন্দী এক ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, ‘আমরা যাদের গরু, ছাগল দেখে রেখেছিলাম, পুজো মণ্ডপ দেখে রেখেছিলাম, তারপরও কেন তাঁরা আমাকে ভোট দিল না, জানি না। ওরা ভুল করেছে। আগামীতে আশা করি এই ভুল তারা করবে না। আমি তাদের অনুরোধ করতে চাই, আপনারা আসুন আমাদের সাথে।’

Published on: Feb 17, 2026 10:15 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

জামাতের প্রথম এবং একমাত্র হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ভোটে হেরেছেন। আর ভোটে হেরেই নিজের এলাকার হিন্দুদের দিলেন 'জ্ঞান'। আবার তাঁর কণ্ঠস্বরে ছিল অভিমানের আঁচ। তাঁর কথায়, হিন্দুদের গরু ছাগল দেখে রাখার পরেও ভোট পেলাম না। তিনি আরও বলেন, তাঁকে ভোট না দিয়ে হিন্দুরা 'ভুল' করেছে। সঙ্গে হিন্দুদের প্রতি তাঁর আরও বার্তা, ভবিষ্যতে যেন তারা আর এই ভুল না করে।

জামাতের প্রথম এবং একমাত্র হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ভোটে হেরেছেন।
জামাতের প্রথম এবং একমাত্র হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ভোটে হেরেছেন।

ভোটে হারা কৃষ্ণ নন্দী এক ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, 'আমরা যাদের গরু, ছাগল দেখে রেখেছিলাম, পুজো মণ্ডপ দেখে রেখেছিলাম, তারপরও কেন তাঁরা আমাকে ভোট দিল না, জানি না। ওরা ভুল করেছে। আগামীতে আশা করি এই ভুল তারা করবে না। আমি তাদের অনুরোধ করতে চাই, আপনারা আসুন আমাদের সাথে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুন। সুন্দরভাবে আমরা চলি। একই সাথে চলি।'

উল্লেখ্য, কৃষ্ণ নন্দী খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে ৫০ হাজার ৪৩৪ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির আমির এজাজ খান। বিএনপি প্রার্থী এই আসনে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯২ ভোট। অন্যদিকে,দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কৃষ্ণ নন্দী ভোট পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৫৮টি।

উল্লেখ্য, চরম ইসলামপন্থী জামাত এই প্রথম কোনও হিন্দুকে প্রার্থী করেছিল। কৃষ্ণ নন্দী অবশ্য বহুদিন ধকেই জামাতের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা জামাতের হিন্দু কমিটির সভাপতি।‌ এই খুলনা-১ আসনে উল্লেখযোগ্য হিন্দু ভোটার রয়েছে। এই আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ সালে এই কেন্দ্রে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিএনপি এই আসনে জিতেছে এবারে।

এর আগে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এখানে বিএনপি প্রার্থী করেছিল জেলার প্রাক্তন আহ্বায়ক আমির এজাজ খান। এবারও তিনি টিকিট পেয়েছেন এবং জয়ী হয়েছেন। এদিকে জামাতের টিকিট পাওয়া কৃষ্ণ নন্দী পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে। বিগত এক বছর ধরে ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে কৃষ্ণ নন্দীকে দেখা গিয়েছিল। হিন্দুদের জামাতের দিকে টানতে বড় ভূমিকা পালন করছেন কৃষ্ণ নন্দী। এদিকে এই আসনে কৃষ্ণ নন্দীর দৌলতে জামাতের সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা বেড়েছে। তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনিপিকে ঠেকানোর মতো লড়াই দিতে পারেনি কৃষ্ণ নন্দী।

এর আগে ২০০১ সালে এই আসনে শেখ হারুনুর রশিদ আওয়ামী লীগের টিকিটে লড়ে হেরেছিলেন পঞ্চানন বিশ্বাসের কাছে। তবে পঞ্চানন পরে শপথ নেন আওয়ামী লীগের সাংসদ হিসেবেই। এরপর ২০০৮ সালে এই আসনে জয়ী হন আওয়ামী লিগের ননী গোপাল মণ্ডল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবার এমপি হন পঞ্চানন বিশ্বাস। ২০২৪ সালে জয়ী হন ননী গোপাল মণ্ডল। দীর্ঘ কয়েকবছর পরে এই আসনে কোনও হিন্দু প্রার্থী জয়ী হলেন না।