JEE Advanced 2026 Topper Study Plans: দেশজুড়ে লাখ-লাখ পড়ুয়ার স্বপ্ন থাকে আইআইটিতে পড়ার। আর সেই স্বপ্নপূরণের কঠিনতম ধাপ হল জেইই অ্যাডভান্সড (JEE Advanced)। ২০২৬ সালের জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৭৭ অর্জন করে মেয়েদের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন আরোহী দেশপান্ডে। তিনি জানান, দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার পাশাপাশি জেইইয়ের মতো সর্বভারতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শীর্ষস্থান দখল করা সহজ ছিল না। এর জন্য প্রয়োজন ছিল কঠোর শৃঙ্খলা এবং সঠিক গাইডেন্স। আর এই কারণেই তিনি কোটাকে বেছে নিয়েছিলেন। কোটার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তাঁকে প্রতিনিয়ত আরও ভালো করার জন্য উদ্বুদ্ধ করত বলে জানিয়েছেন আরোহী।
ঘণ্টা মেপে নয়, লক্ষ্য স্থির করে পড়াশোনা

অনেকে মনে করেন দিনে ১৪-১৫ ঘণ্টা পড়লে তবেই জেইই মেনস বা অ্যাডভান্সড ক্র্যাক করা যায়। কিন্তু আরোহী এই ধারণায় বিশ্বাসী নন। তিনি দৈনিক কত ঘণ্টা পড়ছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন ‘ডেইলি টার্গেট’ বা দৈনিক লক্ষ্যের উপরে। প্রতিদিন সকালে উঠে তিনি ঠিক করে নিতেন যে আজ ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বা ম্যাথের কোন কোন অধ্যায় শেষ করবেন এবং সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করতেন। সাধারণত তিনি দিনে আট থেকে ১০ ঘণ্টা মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করতেন।
NCERT-র বইয়ের ওপর অটুট ভরসা
বিশেষ করে কেমিস্ট্রি (রসায়ন) বিষয়ের জন্য আরোহী এনসিইআরটি বইয়ের প্রতিটি লাইন খুঁটিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মতে, জেইই মেইনস এবং অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় কেমিস্ট্রির বহু প্রশ্ন সরাসরি এনসিইআরটি থেকে আসে।
মক টেস্ট এবং ভুল থেকে শিক্ষা
আরোহী নিয়মিত মক টেস্ট দিতেন। তবে শুধু পরীক্ষা দেওয়াই শেষ কথা নয়, পরীক্ষা শেষে ভুলগুলি বিশ্লেষণ করা ছিল তাঁর সাফল্যের অন্যতম বড় গোপন অস্ত্র। একটি খাতায় তিনি নিজের করা সমস্ত ভুল লিখে রাখতেন, যাকে তিনি ‘মিসটেেক বুক’ বলতেন। পরীক্ষার আগে এই খাতাটি রিভিশন করায় ফাইনাল পরীক্ষায় তাঁর ভুলের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল।
{{/usCountry}}আরোহী নিয়মিত মক টেস্ট দিতেন। তবে শুধু পরীক্ষা দেওয়াই শেষ কথা নয়, পরীক্ষা শেষে ভুলগুলি বিশ্লেষণ করা ছিল তাঁর সাফল্যের অন্যতম বড় গোপন অস্ত্র। একটি খাতায় তিনি নিজের করা সমস্ত ভুল লিখে রাখতেন, যাকে তিনি ‘মিসটেেক বুক’ বলতেন। পরীক্ষার আগে এই খাতাটি রিভিশন করায় ফাইনাল পরীক্ষায় তাঁর ভুলের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল।
{{/usCountry}}সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরত্ব
প্রস্তুতির পুরো দুই বছর আরোহী সোশ্যাল মিডিয়া (যেমন- ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম) থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন। তাঁর কাছে একটি সাধারণ স্মার্টফোন ছিল, যা তিনি কেবল অনলাইন ক্লাস এবং পড়াশোনার দরকারি মেটেরিয়াল খোঁজার জন্য ব্যবহার করতেন।
মানসিক চাপ কাটাতে কী করতেন আরোহী?
কোটার মতো জায়গায় পড়াশোনার চাপ অত্যন্ত বেশি থাকে। এই মানসিক চাপ বা স্ট্রেস সামলানোর জন্য আরোহী প্রতিদিন বিকেলে হালকা হাঁটাহাঁটি করতেন এবং পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। তাঁর কথায়, ‘বাবা-মায়ের ইতিবাচক কথাবার্তা আমাকে সবসময় চাঙ্গা রাখত। কোনও মক টেস্টে নম্বর কম পেলে ভেঙে না পড়ে পরেরবার ভালো করার জেদ তৈরি হত।’