ট্রেনে করেই কলকাতা থেকে নাথুলা পর্যন্ত যাওয়া যাবে? সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারতীয় রেল। সূত্রের খবর, সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে নাথুলা পর্যন্ত রেললাইন চালুর জন্য 'ফাইনাল লোকেশন সার্ভে' (সমীক্ষা) শুরু করা হয়েছে। আর ট্রেনে করে গ্যাংটকে পৌঁছানোর কাজও কিছুটা এগিয়ে গিয়েছে। রেল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে রংপো থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত ৩৪.৭ কিলোমিটার অংশের 'ফাইনাল লোকেশন সার্ভে' কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বছরদুয়েকের মধ্যে ওই অংশের রেললাইনের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ।
ভারতের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে

এমনিতে নাথুলা পর্যন্ত রেললাইন পাতার প্রস্তাব অনেকদিনেরই। ২০২২ সালের সাধারণ বাজেটের পরই উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের তরফে জানানো হয়েছিল যে ভারত-চিন সীমান্তেও যাতে রেললাইন পৌঁছে যায়, সেজন্য ভাবনাচিন্তা শুরু করা হয়েছে। ওই রেলপথ তৈরি হলে সহজই একেবারে চিন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া যাবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত পৌঁছে যাবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। আবার প্রয়োজনে দ্রুত সেনা মোতায়েনও করা যাবে। সবমিলিয়ে একাধিক সুবিধার কথা মাথায় রেখেই রংপো থেকে নাথুলা পর্যন্ত ট্রেন চালানোর বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবনাচিন্তা চালু করে।
গ্যাংটক-নাথুলা লাইনেও কাজ চলছে
তবে একেবারে একধাক্কায় পুরো কাজটা যে করা হবে না, সেটাও সেইসময় রেলের তরফে জানানো হয়েছে। সেইমতো প্রাথমিকভাবে রংপো-গ্যাংটক রুটে সমীক্ষা চালানো হয়। এবার সেই কাজটা শুরু হয়েছে গ্যাংটক-নাথুলা লাইনে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত জটিল হবে ওই অংশে রেললাইন তৈরির কাজ। তাই তড়িঘড়ি কিছু করা হবে না। বেশ সময়সাপেক্ষ হবে নাথুলা পর্যন্ত রেললাইন নিয়ে যাওয়ার কাজ।
কবে সেবক-রংপো লাইনে ট্রেন চলবে?
{{/usCountry}}কবে সেবক-রংপো লাইনে ট্রেন চলবে?
{{/usCountry}}আর এরকম ভৌগোলিক জায়গায় কাজ যে কতটা কঠিন, তা সেবক-রংপো প্রকল্প থেকেই পরিষ্কার। রেল সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত ৪৪.৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর মার্চের মধ্যেই ট্রেন পথে রংপো পৌঁছে যাওয়া যাবে। আপাতত যা খবর, তাতে দুটি টানেল বা সুড়ঙ্গ খননের কাজ বাকি আছে। তারপর লাইন পাতার কাজ শুরু হবে বলে রেল সূত্রে খবর।