Cocaine seized Mundra coast: মূল্য ১,০০০ কোটি! গুজরাট উপকূলে উদ্ধার ব্রাজিলের বিপুল পরিমাণ কোকেন

Cocaine seized Mundra coast: জানা গিয়েছে, বিগত কয়েকদিন ধরেই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ভারতে একটি বড়সড় মাদকের চালান ঢোকানোর চেষ্টা করছিল আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়ারা। গুজরাট এটিএস-এর কাছে এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্য এসে পৌঁছয়।

Published on: May 27, 2026, 23:29:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Cocaine seized Mundra coast: দেশের পশ্চিম সমুদ্রসীমান্তে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সাফল্য ভারতের। গুজরাটের কচ্ছ জেলার মুন্দ্রা উপকূল থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১১৮ কেজি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। গুজরাটের সন্ত্রাসদমন বাহিনী (এটিএস) এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষা বাহিনী (আইসিজি) যৌথ অভিযান চালিয়ে এই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। বুধবার সরকারিভাবে এই অপারেশনের কথা ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এক তানজানিয়ার নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে এটিএস।

গুজরাট উপকূলে উদ্ধার ব্রাজিলের কোকেন
গুজরাট উপকূলে উদ্ধার ব্রাজিলের কোকেন

গুজরাট পুলিশের ডিজিপি ডঃ কে এল এন রাও জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা দুই বিদেশি নাগরিক এই বিপুল পরিমাণ কোকেনের কনসাইনমেন্ট ভারতে নিয়ে এসেছিল। দিল্লির বুকে সক্রিয় থাকা এক তানজানিয়ান এবং এক উগান্ডান নাগরিকের হাতে এই ড্রাগস তুলে দেওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩ জনকে হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জেরা করা শুরু হয়েছে।

কী ভাবে অপারেশন করা হয়?

জানা গিয়েছে, বিগত কয়েকদিন ধরেই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ভারতে একটি বড়সড় মাদকের চালান ঢোকানোর চেষ্টা করছিল আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়ারা। গুজরাট এটিএস-এর কাছে এই বিষয়ে একটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্য এসে পৌঁছয়। এরপর গত ২৫ এবং ২৬ মে-র মধ্যবর্তী রাতে মুন্দ্রা উপকূলের অদূরে আরব সাগরের বুকে যৌথ ফাঁদ পাতে দুই সংস্থা। মাদক বোঝাই যে বিদেশি জাহাজটিকে মুন্দ্রা বন্দরের আউটার অ্যাঙ্করেজে আটক করা হয়েছে, সেটির নাম ‘এমভি ইউরোপ’। ব্রাজিল থেকে রওনা দিয়ে একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ, মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের করাচি বন্দর হয়ে এই বিপুল পরিমাণ কোকেন নিয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছিল ওই কন্টেইনার জাহাজটি।

জাহাজে থাকা দুই বিদেশি নাগরিক এই বিপুল পরিমাণ কোকেনের কনসাইনমেন্ট ভারতে নিয়ে এসেছিল। খবর পাওয়ার পরই গুজরাট এটিএস এবং ভারতীয় কোস্ট গার্ড যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। নজরদারির সময় জাহাজের ডেকে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসে। কোস্ট গার্ডের নৌকা কাছে আসতেই তারা কয়েকটি ভারী ব্যাগ সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে সমুদ্র থেকে পাঁচটি ভাসমান ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলির মধ্যে দুটি থেকে নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলিতে কোকেন রয়েছে। মোট ১১৫টি প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ১১৮.৯৭৭ কিলোগ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ কোকেনের মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, উদ্ধার হওয়া ব্যাগগুলির ভিতর থেকে চারটি অ্যাপল এয়ারট্যাগও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার পরেও ব্যাগগুলির অবস্থান ট্র্যাক করার জন্যই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, গোটা পাচারচক্র অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর ছিল। এর পাশাপাশি জাহাজে আরও তল্লাশি চালিয়ে স্টিয়ারিং গিয়ার রুম থেকে দুটি অত্যাধুনিক গারমিন জিপিএস ও স্যাটেলাইট কমিউনিকেটর ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত জুমা নাসির ওমর স্বীকার করেছে, সে ব্রাজিল থেকে এই কোকেন জাহাজে তোলে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জাহাজের মোটর রুমে লুকিয়ে রাখে। সে জানিয়েছে, অন্য কর্মীদের অজান্তেই এই কাজ করা হয়েছিল, কারণ মোটর রুমে তারই দায়িত্ব ছিল। নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী মুন্দ্রার কাছে সমুদ্রে সেই মাদক সরবরাহ করার কথা ছিল বলেও সে স্বীকার করেছে। অভিযানের সময় অপর অভিযুক্ত এনগিনগিতে নাসোরো জুমান্নে জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বর্তমানে তাকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছে কোস্ট গার্ড এবং নিরাপত্তা বাহিনী। এই মামলায় দিল্লির দ্বারকা এলাকা থেকেও দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে গুজরাট এটিএস। তাদের মধ্যে একজন নাইজেরিয়ার এবং অন্যজন উগান্ডার বাসিন্দা। গোটা ঘটনায় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বড় নেটওয়ার্ক সামনে এসেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এখন এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, ভারতে এর আগেও এমন চালান এসেছে কি না এবং এর পেছনে কোনও বড় আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।