Amir Hamza Shot: ঠিক যেন 'ধুরন্ধর' স্টাইল! লাহোরে গুলিবিদ্ধ লস্করের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা, আশঙ্কাজনক...

Amir Hamza Shot: আমির হামজা শুধুমাত্র লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই নয়, সে হাফিজ সইদের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী।

Published on: Apr 16, 2026 1:53 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Amir Hamza Shot: পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জঙ্গি আমির হামজাকে লাহোরে গুলি করল ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ আততায়ীরা। বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন এই কুখ্যাত জঙ্গি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লাহোরে একটি নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা হামজাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ভারতে হামলার পেছনে একাধিক যোগসূত্র রয়েছে এই কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতার।

লাহোর গুলিবিদ্ধ আমির হামজা (সৌজন্যে টুইটার)
লাহোর গুলিবিদ্ধ আমির হামজা (সৌজন্যে টুইটার)

আমির হামজার ওপর এই হামলা পাকিস্তানের মাটিতে লস্কর নেতৃত্বের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক ভারত-বিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যজনক মৃত্যু বা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামজার ওপর এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রেখেছে পাক সুরক্ষা বাহিনী। হামলার দায় এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলার শিকার হয়েছে হামজা। গত বছর মে মাসে লাহোরে তার বাসভবনের বাইরে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা কুখ্যাত জঙ্গিকে গুলি করে। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ওই জঙ্গির নিরাপত্তা জোরদার করে বলে জানা যায়।

কে এই আমির হামজা?

আমির হামজা শুধুমাত্র লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যই নয়, সে হাফিজ সইদের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী। আশির দশকে আফগান মুজাহিদিনদের দলে থেকে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল তার। হামজা ১৯৮৫-৮৬ সালের মধ্যে হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবা প্রতিষ্ঠা করে। ভারত-সহ বিশ্বজুড়ে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। সইদের পর তাকেই লস্কর-ই-তৈবার দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ লস্করকে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং আমির হামজাকে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লস্কর-ই-তৈবার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে হামজা। এমনকী লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে হামজা। একাধিক বইও লিখেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০০২ সালের ‘কাফিলা দাওয়াত অউর শাহদত।’

২০১৮ সালে লস্করের ছত্রছায়ায় থাকা অলাভজনক সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ্-ই-ইনসানিয়তের আর্থিক লেনদেনের উপর খাঁড়া নেমে এলে, সংগঠনের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেয় হামজা। পরবর্তীতে নিজের সংস্থা জইশ-ই-মানকফার প্রতিষ্ঠা করে। ওই সংগঠন জম্মু ও কাশ্মীরে নাশকতামূলক কাজকর্মে মদত জোগায়। পাকিস্তানে ওই সংগঠন দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অবাধ বিচরণ ছিল হামজারও। এমনকী লস্কর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে সে। হামজা হাফিজ সইদ এবং আব্দুল রহমান মাক্কি, দু'জনেরই ঘনিষ্ঠ বলে শোনা যায়। আদতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা হামজা ২০০০ সালের আশপাশে ভারতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে হামলা হয়, তাতে তার হাত ছিল। এর আগে, ২০২৫ সালেও হামজার উপর হামলা হয়। সেবার বাড়িতেই তার উপর হামলা হয় বলে জানা যায়। লস্করের আবু সইফুল্লার মৃত্যুর পর পরই ওই ঘটনা ঘটে। সইফুল্লাকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা।