Leftist Leader wins Brazil Election: নাটকীয়ভাবে ব্রাজিলের নির্বাচনে বাজিমাত করলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রথম রাউন্ডে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বোলসোনারোর কাছে কার্যত উড়ে যাওয়ার পরেও দুরন্ত কামব্যাক করে ইতিহাস তৈরি করে ফেললেন বামপন্থী নেতা। সেইসঙ্গে আর্জেন্টিনা, চিলি, কলম্বিয়া, পেরুর মতো দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশে যে ডানপন্থী ঢেউ উঠেছিল, তা প্রতিহত করে দিলেন। অনেকের দাবি, সেই ডানপন্থী ঢেউয়ের পিছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন ছিল। কিন্তু ব্রাজিলের নির্বাচনে তাঁকে ধাক্কা খেতে হল।
প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়া প্রবল ছিল বাম নেতার বিরুদ্ধে
যদিও একটা সময় ছবিটা পুরোপুরি উল্টো ছিল। ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা, বেকারত্ব, দুর্নীতির মতো তীরে বিদ্ধ হয়ে নির্বাচনের আগে প্রবল চাপে ছিলেন লুলা। বইছিল প্রবল প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া। সেই হাওয়ার তেজ এতটাই প্রবল ছিল যে প্রথম রাউন্ডে স্রেফ উড়ে যান সদ্য ৮১ বছরে পা দেওয়া লুলা। তাঁর বিদায়ঘণ্টা কার্যত বেজে গিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে কামব্যাক করেন বাম নেতা।
ফুটবলের ভাষায় বললে দ্বিতীয়ার্ধে সাম্বা ঝড় তোলেন লুলা
সাম্বার দেশ ব্রাজিলের ফুটবলের ভাষায় বলতে গেলে প্রথমার্ধে কমপক্ষ পাঁচ গোলে পিছিয়ে ছিলেন লুলা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চমকপ্রদ কায়দায় কামব্যাক করে বাজিমাত করে ফেলেন নির্বাচনে। তার ফলে ঐতিহাসিক চতুর্থবারের জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হতে চলেছেন লুলা। যিনি ১৯৮৯ সালে ব্রাজিলে একনায়কতন্ত্র শেষ হওয়ার পরে প্রথম প্রার্থী হিসেবে পয়লা রাউন্ডে হেরে গিয়েও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ হাসি হাসলেন।
রিও থেকে সাও পাওলো- চলছে উচ্ছ্বাস
{{/usCountry}}রিও থেকে সাও পাওলো- চলছে উচ্ছ্বাস
{{/usCountry}}সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫১.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন লুলা। সেখানে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিওয়ের ঝুলিতে ৪৮.২ শতাংশ ভোট পড়েছে। সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাবতীয় পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণিত করে বাম নেতা জেতার পরে রিও দি জেনেইরোতে বাজি পোড়ানো হতে থাকে। বাজানো হতে থাকে ভুভুজেলা। লুলার দলের লাল পোশাক পরে সাও পাওলোর রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে থাকেন হাজার-হাজার মানুষ।
‘বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখে দিয়েছি’, ট্রাম্পকে নিশানা লুলার
তারইমধ্যে নাম না করে ট্রাম্পকে নিশানা করে লুলা বলেন, ‘আমরা মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে ব্রাজিলে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখে দিয়েছি (যে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকা)। ব্রাজিল কারও বাড়ির দালান নয়। আমরা এই দেশের পরিচালনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনব। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে তুলব।’