ফের একবার মুখ্যনির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গে ফের এসআইআর। এছাড়াও ছিল বেসরকারি আবাসনে ভোটকেন্দ্র ইস্যু সহ একাধিক বিষয়। দুই পাতার এই চিঠিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেছেন একাধিক প্রশ্ন। এদিকে, খুব শিগগিরিই দিল্লির বুকে পা রেখে ১০ সদস্যের তৃণমূল সাংসদদের টিম এসআইআর নিয়ে মুখ্যনির্বাচন কমিশনরারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন বলে খবর। এই বিষয়ে দলের কোন ১০ সদস্য সেখানে যাবেন, তার টিম তৈরি করে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে, ফের একবার এসআইআর-র ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপরেটর প্রসঙ্গে। এর আগে, এসআইআর-এর কাজে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহার করা যাবে না, বলে জানানো হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যনির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে। টেন্ডার ডেকে এক বছরের জন্য এক হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফ্টঅয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের জন্য রাজ্যকে প্রস্তাব দিয়েছিল সিইও দফতর। আর তা নিয়েই চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। দিদি বলছেন, জেলাস্তরের অফিসে এই কাজের জন্য আগে থেকেই কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে ১ বছরের জন্য কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন কী? প্রশ্ন তুলেছেন দিদি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, জেলার অফিসগুলিকে টপকে সিইও দফতর থেকে কেন এই নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে? চিঠিতে কর্মী নিয়োগের এই সময়কাল ও যে ভাবে লোক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, তা নিয়েও দিদির প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়াও বেসরকারি মালিকানাধীন ভবনকে ভোটকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হতে পারে, বলে দিদি জানতে পেরেছেন, বলে জানান। জেলাস্তরের আধিকারিকদের থেকে এই বিষয়ে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে বলে খবর। মমতার বার্তা, বেসরকারি ভবনকে ভোটকেন্দ্র করলে, স্বচ্ছ্বতা, বিধিভঙ্গের আশঙ্কা সহ একগুচ্ছ বিষয় নিয়ে উদ্বেগ থেকে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির বৈষম্যের প্রসঙ্গও তুলেছেন।
দিল্লি যাচ্ছে তৃণমূলের টিম?
এদিকে, দিল্লির বুকে এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে প্রস্তুত তৃণমূল। সোমবারই তাঁর ভার্চুয়াল বৈঠকে তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনই খবর উঠে আসছে। ১০ সাংসদকে নিয়ে একটি টিম গড়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই টিমের মূল লক্ষ্য দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করা। এসআইআর ঘিরে উঠে আসা সমস্যাগুলি কমিশনের কাছে পেশ করাই হল এই টিমের আসল উদ্দেশ্য।