S Jaishankar-Marco Rubio Meeting: 'আমেরিকা ও ভারত শুধু বন্ধুই নয়...,' জয়শঙ্করকে বিশেষ বার্তা মার্কো রুবিও-র
S Jaishankar-Marco Rubio Meeting: ভারত সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। সাউথ ব্লকে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
S Jaishankar-Marco Rubio Meeting: বিশ্ব রাজনীতি ও ভূকৌশলগত সমীকরণে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল ওয়াশিংটন। চার দিনের সফরে ভারতে এসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন সংজ্ঞা দিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানালেন, ভারত ও মার্কিন শুধু বন্ধুই নয়, বরং কৌশলগত অংশীদার, যারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।

শনিবার সফরের প্রথম দিন নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। এরপরেই রবিবার বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বিস্তৃত বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব। হায়দরাবাদ হাউসে আয়োজিত এই প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার সময় শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই গভীর ‘কৌশলগত সম্পর্কই’ দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়াকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র করে তুলেছে। দুই দেশের বন্ধুত্বের গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত শুধু সাধারণ কোনও মিত্র নয়। আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র এবং এই বিষয়টি বর্তমান ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নানা বিষয়ে কাজ করে থাকি, কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেটাই এই সম্পর্ককে অন্য সব দেশের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র করে তুলেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার এক বিরাট সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আর এর মধ্যে সম্ভাব্যভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে-যেমনটা আমি আগেও বলেছি এবং গত রাতে নৈশভোজেও আমরা এ নিয়ে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম-পশ্চিমা গোলার্ধ এবং এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো।' মার্কিন বিদেশ জানান, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কোনও সাময়িক চুক্তি বা রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, বরং বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতন্ত্র হওয়াই এই দুই দেশের নিবিড় সহযোগিতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি। দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব বলেন, 'আমরা বিশ্বের দুটি বৃহত্তম গণতন্ত্র। শুধু এই একটি বিষয়ই অসাধারণ সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করে। আমাদের মধ্যে এত বেশি অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য রয়েছে যে, তার ওপর ভিত্তি করে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ। অনেকে এই সম্পর্ককে ‘পুনরুদ্ধার’ বা ‘পুনরুজ্জীবিত’ করার মতো শব্দ ব্যবহার করছেন, কিন্তু আমি তা মনে করি না। এটি আসলে কোনও কিছু নতুন করে শুরু করার বিষয়ই নয়। বরং আমাদের ইতিমধ্যে বিদ্যমান অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে আরও এগিয়ে যাওয়ার বিষয়। আমাদের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদারিত্ব; আমি তো বলব, এটি এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ।'
ভারত সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। সাউথ ব্লকে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠকে মার্কিন কূটনীতিক প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আশ্বস্ত করে জানান, বিগত কয়েক বছরে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলিতে এক ‘ধারাবাহিক অগ্রগতি’ লক্ষ্য করা গিয়েছে এবং ওয়াশিংটন এই সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বিশ্ব কল্যাণের জন্য ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।
E-Paper

