সল্ট লেকের গভীরে মিলল বিশাল পানীয় জলের আধার, নোনা জলের নিচে মিষ্টির হদিশ! প্রকৃতির খেলায় হতবাক বিজ্ঞানীরা
সল্ট লেকের নোনা জলের নীচে রয়েছে বিশাল মিষ্টি জলের আধার। এত দিন চোখের সামনে ছিল, তবু নজরে আসেনি কারও। অবশেষে সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা।
প্রকৃতি তার রহস্যের ঝুলি কখন কীভাবে উন্মোচন করবে, তা বলা মুশকিল। সম্প্রতি 'গ্রেট সল্ট লেক' (Great Salt Lake)-এর নিচে এক বিশাল মিষ্টি জলের ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়ে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো চমকে গেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আবিষ্কারটি ওই অঞ্চলের জল সংকট কাটানোর জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।

গ্রেট সল্ট লেক মূলত তার অতিরিক্ত লবণের ঘনত্বের জন্য পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিনের গবেষণার পর ভূতত্ত্ববিদরা লেকের তলদেশের স্তরের নিচে এমন এক বিশালাকায় জলাধার (Aquifer) খুঁজে পেয়েছেন, যা সম্পূর্ণ মিষ্টি জলে পূর্ণ। এই আবিষ্কারটি জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
(আরও পড়ুন: মানুষের মনের ওপর এক সময়ে সত্যিই দখল নেবে ছত্রাক? মাকড়সার পরিণতি দেখে চিন্তায় বিজ্ঞানীরা)
কীভাবে আবিষ্কৃত হলো এই গুপ্ত ভাণ্ডার?
আমেরিকার ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আধুনিক সিসমিক ম্যাপিং এবং গ্রাউন্ড-পেনেট্রেটিং রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই জরিপ চালিয়েছেন। তাঁরা লক্ষ্য করেন যে, লেকের তলদেশের মাটির গভীর স্তরে নোনা জলের পরিবর্তে মিষ্টি জলের একটি বিশাল স্তর রয়েছে। এই জল কয়েক হাজার বছর ধরে মাটির নিচে পাথরের স্তরে আটকা পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বরফ যুগের শেষের দিকে যখন হিমবাহ গলেছিল, তখন সেই জল চুইয়ে মাটির নিচে এই প্রকাণ্ড আধার তৈরি করেছিল।
(আরও পড়ুন: গোবি মরুভূমিতে মিলল ডাইনোসর যুগের ১ সেন্টিমিটার জীবাশ্ম! বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এটি)
কেন এই আবিষ্কারটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘমেয়াদী খরার কবলে রয়েছে। গ্রেট সল্ট লেকের জলের স্তরও রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে গিয়েছিল, যা স্থানীয় বাস্তুসংস্থান এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই নতুন আবিষ্কৃত মিষ্টি জলের উৎসটি নিম্নলিখিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ:
১. জল সংকট নিরসন: এই জলাধারে যে পরিমাণ জল রয়েছে, তা দিয়ে কয়েক দশক ধরে স্থানীয় কৃষি ও পানীয় জলের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
২. পরিবেশ রক্ষা: গ্রেট সল্ট লেক শুকিয়ে গেলে ধূলিকণা ও বিষাক্ত খনিজ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার ভয় ছিল। এই ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করে লেকের ভারসাম্য রক্ষা করা যেতে পারে।
৩. বিবর্তনের সংকেত: এই প্রাচীন জল বিশ্লেষণ করে কয়েক হাজার বছর আগের পৃথিবীর জলবায়ু এবং অণুজীব সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা
বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কারে উচ্ছ্বসিত হলেও একটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এই মিষ্টি জলের ভাণ্ডারটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি অপরিকল্পিতভাবে এই জল তোলা হয়, তবে পাশের নোনা জল সেখানে ঢুকে পড়ে পুরো উৎসটিকেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই এই সম্পদ ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উন্নত ও টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইউটাহ প্রশাসন এবং বিজ্ঞানীরা বর্তমানে এই জলের পরিমাণ এবং গুণমান নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করছেন। যদি এই জল সরাসরি পানযোগ্য হয়, তবে এটি আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের জল ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাতে পারে। মহাকাশ থেকে তোলা স্যাটেলাইট ইমেজেও এখন এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
(আরও পড়ুন: দেখে তো কুমির বলেই মনে হয়, কিন্তু পাগুলো কুকুরের মতো! ভয়ঙ্কর শিকারির সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা)
প্রকৃতি আমাদের বারবার শেখায় যে আপাতদৃষ্টিতে যা অনুর্বর বা মৃত মনে হয়, তার নিচেই হয়তো জীবনের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে। নোনা হ্রদের নিচে এই মিষ্টি জলের সন্ধান কেবল একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, এটি আগামীর জল সংকটের বিরুদ্ধে লড়াই করার এক নতুন অস্ত্র।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


