DK Shivakumar cabinet: 'বিবেকের বিরুদ্ধে...,' কর্ণাটকে কোন্দল, শিবকুমারের শপথের ৩ দিনের মধ্যে পদত্যাগ মন্ত্রীর
DK Shivakumar cabinet: বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দফতর না পাওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার তাঁকে বৃহৎ ও মাঝারি সেচ দফতরের দায়িত্ব দেন।
DK Shivakumar cabinet: কর্ণাটকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মন্ত্রিসভা গঠনের মাত্র তিন দিনের মাথায় ইস্তফা দিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডি। কাঙ্ক্ষিত দফতর না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা জানান, নিজের 'বিবেকের' বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব বণ্টনে তাঁকে 'অপমান' করা হয়েছে। রামালিঙ্গা রেড্ডির এই পদক্ষেপ রাজ্যের শাসকদল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।

বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দফতর না পাওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রামালিঙ্গা রেড্ডি। মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার তাঁকে বৃহৎ ও মাঝারি সেচ দফতরের দায়িত্ব দেন। এ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন। এদিন সাংবাদিকদের সামনে নিজের পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করার পর রেড্ডি বলেন, 'দু’বার আমাকে বলা হয়েছিল যে বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দফতর আমার হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় আমি হতাশ। সেই কারণেই মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগ করছি কারণ নিজের 'বিবেকের' বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। আর কতদিন এই অপমান সহ্য করব? আমার সামনে আর কী বিকল্প ছিল?’
বৃহস্পতিবার কর্ণাটক সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। রামলিঙ্গা রেড্ডিকে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এমনকী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা নিয়ে যারা তাঁর কাছে গিয়েছিলেন, তাদেরও তিনি জানান যে পরামর্শ দেওয়ার সময় ইতিমধ্যে পেরিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার পরিস্থিতিকে খুব একটা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন না। তিনি বলেন, ‘চিন্তার কিছু নেই। রামালিঙ্গা রেড্ডি আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মন্ত্রিসভায় আমরা সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন তিনি। আমরা বিষয়টির সমাধান করে ফেলব।’
কংগ্রেসেই থাকছেন রামালিঙ্গা রেড্ডি
তবে রেড্ডি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর ক্ষোভ ব্যক্তিগত নয়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার প্রতি তাঁর কোনও অসন্তোষ নেই। তিনি বিধায়ক পদে বহাল থাকবেন এবং জনসেবার কাজ চালিয়ে যাবেন। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না। বরং তাঁর এক সমর্থকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিবের কাছে সেই চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার অর্থ দফতর নিজের কাছে রাখলেও বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দফতরের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ দফতর দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসের আরেক প্রবীণ নেতা কৃষ্ণা বাইরে গৌড়াকে। উল্লেখ্য, ৭২ বছর বয়সি রামালিঙ্গা রেড্ডি বেঙ্গালুরুর বিটিএম লেআউট কেন্দ্রের বিধায়ক এবং টানা আটবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সিদ্ধারামাইয়া সরকারের সময় তিনি পরিবহণ এবং হিন্দু ধর্মীয় ও দাতব্য ট্রাস্ট দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। অতীতে স্বরাষ্ট্র দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বও সামলেছেন তিনি।
E-Paper

