...
...
Next Story

Success Story: ২০ বছর মা কেচেছেন পুলিশের উর্দি, সেই ছেলে PSC পরীক্ষা দিয়ে হলেন সরকারি অফিসার

Success Story: ২০ বছর মা কেচেছেন পুলিশের উর্দি। সেই ছেলে পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দিয়ে হলেন সরকারি অফিসার। পিএসসি পরীক্ষা ক্র্যাক করে তিনি রাজস্ব আধিকারিক হয়েছেন। তারপর যে থানায় মা কাপড় কাচতেন, সেখানেই তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

Published on: Jul 14, 2026, 17:59:03 IST
Advertisement

Success Story: প্রায় দু'দশক ধরে পুলিশ অফিসারদের উর্দি ও জামাকাপড় কাচতেন। সেই মায়ের ছেলে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) পরীক্ষায় বাজিমাত করে রাজস্ব আধিকারিক হলেন। আর তারপর তাঁকে সংবর্ধনা দিলেন পুলিশ অফিসাররাই। আর সেই ছেলে হলেন ধর্মেন্দ্র কুমার। তিনি বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষায় বাজিমাত করেছেন।

চরম দারিদ্র্য ও মায়ের ২০ বছরের সংগ্রাম

পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দিয়ে ধর্মেন্দ্র কুমার হলেন সরকারি অফিসার। (ফাইল ছবি)
পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দিয়ে ধর্মেন্দ্র কুমার হলেন সরকারি অফিসার। (ফাইল ছবি)

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে ধর্মেন্দ্রের জীবনের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। তাঁর বাবা একজন দিনমজুর। প্রতিদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে যা আয় হত, তা দিয়ে কোনওরকমে পরিবারের মুখে দু'মুঠো অন্ন জুটত। সেই অবস্থায় ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব। ঠিক সেই সময়ই পরিবারের হাল ধরেন ধর্মেন্দ্রর মা রেখা দেবী।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: ২৩ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে IAS হলেন কাজল! অফিস-পরিবার সামলে পড়তেন বিশেষ কৌশলে

গত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে রেখা জন্দাহা থানায় কর্মরত পুলিশকর্মীদের জামাকাপড় ও উর্দির ধোয়া এবং ইস্ত্রি করার কাজ করছেন। নিজের কষ্টের কথা চিন্তা না করে দিন-রাত এক করে কাজ করে গিয়েছেন কেবল একটিই উদ্দেশ্যে- ছেলেকে বড় মানুষ করতে হবে। জামাকাপড় ধুয়ে যে যৎসামান্য টাকা তিনি উপার্জন করতেন, তার প্রতিটি পয়সা তিনি জমিয়ে রাখতেন ধর্মেন্দ্রর বইপত্র কেনা এবং পড়াশোনার খরচের জন্য।

আর্থিক অনটন থাকলেও ধর্মেন্দ্র পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ২০২১ সালে পাটনা ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপরই তিনি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন এবং তাঁর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় বিপিএসসিপরীক্ষা। বাড়িতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ বা দামি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার মতো সামর্থ্য না থাকলেও ধর্মেন্দ্রর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর মা।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: মৃত মায়ের ইচ্ছাপূরণ! UPSC সিভিল সার্ভিসেস বাজিমাত আশিসের, শেষবার পালটান বড় কৌশল

ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, পড়াশোনার এই দীর্ঘ সফরে যখনই তিনি হতাশ হয়ে পড়তেন, মায়ের ওই পরিশ্রমী মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে শক্তি পেতেন। অবশেষে তাঁর সেই একাগ্রতা ও ধৈর্যের ফল মিলেছে। ৭০ তম বিপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি রাজস্ব আধিকারিকের মর্যাদাপূর্ণ পদটি লাভ করেছেন।

ছেলের এই সাফল্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মা। চোখে আনন্দের জল নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গত ২০ বছর ধরে পুলিশদের উর্দি ধুয়ে আসছি। কিন্তু কোনওদিন স্বপ্নেও ভাবিনি যে আমার এই কষ্টের ফল এভাবে পাবো। আমার ছেলে আজ বড় অফিসার হয়েছে, এর চেয়ে বড় আনন্দ একজন মায়ের কাছে আর কী হতে পারে!’

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe