MCA: PMর নিরাপত্তা গাফিলতি-৫০ কোটি দুর্নীতি! দিল্লি জিমখানা ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা : Report

Delhi Gymkhana Club: কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে ক্লাবটিকে ৫ জুনের মধ্যে ২৭.৩ একর মূল্যের জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

Published on: May 25, 2026, 23:11:51 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Delhi Gymkhana Club: দিল্লির অভিজাত জিমখানা ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, বেআইনি নিয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিজাত জিমখানা ক্লাবের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ তুলে ধরেছিল কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক (এমসিএ)। ২০২২ সালের পরিদর্শনের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলি সামনে আসে।

দিল্লি জিমখানা ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা (HT_PRINT)
দিল্লি জিমখানা ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগের তালিকা (HT_PRINT)

সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে ক্লাবটিকে ৫ জুনের মধ্যে ২৭.৩ একর মূল্যের জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে পাঠানো ফাইল নোটিংসে ক্লাবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতারণা, অনিয়ম এবং বেআইনি কার্যকলাপের উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে গিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছে।

সরকারি নথি থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলি হল-

১. প্রায় ৫০ কোটি টাকার পাবলিক ডিপোজিট দুর্নীতি

২. জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং ১৩ আগস্ট ২০২২-এ রাজেশ ভাটনগর ও অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা নতুন এফআইআর

৩. পাঁচ মনোনীত পরিচালকের বেআইনি ও অবৈধ সিদ্ধান্ত

৪. রাজেশ ভাটনগরের প্রাক্তন বস রাজীব হোরাকে বেআইনিভাবে সচিব পদে নিয়োগ

৫. সিবিআই-র একাধিক পরিদর্শন

৭. EOW FIR-103/21 সংক্রান্ত নোটিস

৮. সরকারের কাছে ক্লাব সদস্য ও কর্মীদের তরফে পাঁচ পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

৯. এনসিএলএটি, এনসিএলটি এবং সরকারি নির্দেশ মানতে অস্বীকার

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা লঙ্ঘন:

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ড্রোন ওড়ানো এবং নিষিদ্ধ এলাকায় অননুমোদিত কর্মসূচি করার মতো এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে অভিজাত জিমখানা ক্লাবের বিরুদ্ধে। তৎকালীন অতিরিক্ত ডিসিপি হেমন্ত তিওয়ারি স্বাক্ষরিত এবং কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের উপ-পরিচালককে সম্বোধন করা একটি সরকারি চিঠি সামনে আসতেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। চিঠিতে এস এম (অবসরপ্রাপ্ত) আশীষ খান্নার দায়ের করা একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিযোগ অনুযায়ী, দিল্লির জিমখানা ক্লাবের তৎকালীন সচিব শ্রী এ ভার্মা, এফ অ্যান্ড বি ম্যানেজার রাজেশ ভাটনগর এবং কয়েকজন সমাজবিরোধী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি বা ড্রোন কার্যকলাপ চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও জীবন বিপন্ন করেন। দিল্লি জিমখানা ক্লাবের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা সচিব এ. ভার্মাকে এই ধরনের ড্রোন কার্যকলাপ না চালানোর জন্য আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি সেই সতর্কতা এবং নিয়মকানুন সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ড্রোনের পাশাপাশি আইন লঙ্ঘন করে একটি অননুমোদিত 'তিরঙ্গা যাত্রা'-ও বের করা হয়েছিল। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২২ সালের ১৩ আগস্ট এমন একটি অতি-সংবেদনশীল স্থানে এই অননুমোদিত তিরঙ্গা যাত্রাটি করা হয়েছিল, যে রুট দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিভিআইপিদের যাতায়াত করার কথা ছিল। এই চরম গাফিলতি এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, তিরঙ্গা যাত্রার মূল আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারী সদস্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৬/১৮৮/৩৪ ধারার অধীনে ২০২২ সালের ১৩ আগস্ট একটি মামলা (এফআইআর নং ১২৪/২২) দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের তরফে এক জিসি সদস্য ও অন্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। তদন্ত চলায় তখন আর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

২০২২ সালে পরিদর্শনের পর

এমসিএ-র পক্ষ থেকে রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'সম্পূরক পরিদর্শন রিপোর্টে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি এবং কোম্পানিজ অ্যাক্ট ১৯৫৬ ও ২০১৩ লঙ্ঘনের বিষয় উঠে এসেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫০ কোটি টাকার পাবলিক ডিপোজিট সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে শুনানির পর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সাসপেন্ড করা হয়।' রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ক্লাবের জেনারেল কমিটি কোম্পানির আইন ভঙ্গ করেছে, কারণ তারা নিয়মিত বৈধ বোর্ড মিটিং করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতি মাসে বোর্ড মিটিং হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা হয়নি। মন্ত্রকের মতে, এটি অত্যন্ত গুরুতর ত্রুটি।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং বেআইনি ড্রোন ওড়ানোর বিতর্কের মাঝেই এবার দিল্লি জিমখানা ক্লাবের অন্দরে চলা কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি ও দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন ক্লাবেরই প্রাক্তন বোর্ড সদস্য তথা মূল অভিযোগকারী নিজি সাপরা। তিনি বলেন, 'আমি দীর্ঘ ৩০ বছর অপেক্ষা করার পর এই ক্লাবের সদস্যপদ পেয়েছিলাম। অথচ জিমখানায় আজও এমন কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও ক্ষমতাশালী চক্র রয়েছে, যাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের (ছেলে-মেয়েদের) সদস্যপদ পেতে গেলে একদিনও অপেক্ষা করতে হয় না।' তিনি আরও বলেন, 'যারা জিমখানা ক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনামকে নিজেদের স্বার্থে অপব্যবহার করেছে এবং এটিকে কোটি কোটি টাকা কামানোর একটি ‘অভিজাত মাফিয়া ইকোসিস্টেমে’ পরিণত করেছে, তাদের জন্য এই সাম্প্রতিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও তদন্তের নির্দেশ একটি মস্ত বড় ধাক্কা।'