Mumbai News: মুম্বইয়ে ভাইরাসের থাবা! কোভিড-সোয়াইন ফ্লু'র চোখরাঙানি, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা

Mumbai News: চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন যে-বর্ষা আসতে দেরি হওয়ার কারণেই শ্বাসকষ্টজনিত এই ভাইরাসগুলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় ধরে বাতাসে সক্রিয় বা স্থায়ী অবস্থায় থেকে যাচ্ছে।

Published on: Jun 21, 2026, 22:25:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Mumbai News: বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে হঠাৎ করেই গ্রাফ বাড়ছে বিভিন্ন ধরণের ভাইরাল সংক্রমণের। রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের মতো শহরের প্রধান প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর ল্যাবে প্রতিদিন সাতটিরও বেশি কোভিড-১৯ অথবা এইচ১এন১ পজিটিভ কেস শনাক্ত করা হচ্ছে।

মুম্বইয়ে কোভিড-সোয়াইন ফ্লু'র চোখরাঙানি (PTI Photo) (PTI12_19_2023_000172B)
মুম্বইয়ে কোভিড-সোয়াইন ফ্লু'র চোখরাঙানি (PTI Photo) (PTI12_19_2023_000172B)

গত ২০ জুন ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, চিকিৎসকরা একই সঙ্গে কোভিড-১৯, এইচ১এন১ (যা আগে সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত ছিল), ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস (আরএসভি)-এর প্রকোপ একযোগে বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। বম্বে হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. গৌতম বনশালী এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, বর্তমানে একাধিক ভাইরাস একই সঙ্গে সংক্রামিত হচ্ছে। তিনি বলেন, 'এই মুহূর্তে চারদিকে ভাইরাসেরই দাপট চলছে। আমাদের কাছে আসা রোগীদের মধ্যে সোয়াইন ফ্লু, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং আরএসভি-র মতো একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি।' তিনি আরও বলেন, 'এই ভাইরাসগুলোর কারণে রোগীদের তীব্র জ্বর এবং ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, যার ফলে অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়ে পড়ছে।'

ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের বিশিষ্ট প্যাথলজিস্ট ড. সঞ্জয় মেহতা ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-কে জানিয়েছেন, 'গত কয়েক দিন আগে থেকেই নতুন করে কোভিডের কেস সামনে আসতে শুরু করেছে।' তিনি আরও জানান, তাঁর ল্যাবরেটরিতে প্রতিদিন গড়ে সাতটিরও বেশি কোভিড অথবা এইচ১এন১ পজিটিভ কেস শনাক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রবীণ চিকিৎসক ড. হেমন্ত ঠাক্কর জানান, তাঁর ওপিডি-তে এখন প্রতিদিন বেশ কয়েকজন নতুন কোভিড আক্রান্ত রোগী আসছেন। ড. ঠাক্কর ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-কে বলেন, 'রোগীরা মূলত তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্টজনিত নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। গত এক মাসে আমরা প্রচুর সোয়াইন ফ্লুর কেস দেখেছি, তবে গত ৭ থেকে ১০ দিনে এর পাশাপাশি কোভিডের প্রকোপও নতুন করে দেখা দিতে শুরু করেছে।'

মুম্বইয়ে কেন বাড়ছে কোভিড সংক্রমণ?

বিএমসি-র এগজিকিউটিভ হেলথ অফিসার ড. দক্ষ শাহ ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-কে জানিয়েছেন, কিছু কোভিডের কেস সামনে এসেছে ঠিকই, তবে 'আমাদের ধারণা, মূলত বর্তমান আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এই সংক্রমণ বাড়ছে।' প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন যে-বর্ষা আসতে দেরি হওয়ার কারণেই শ্বাসকষ্টজনিত এই ভাইরাসগুলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় ধরে বাতাসে সক্রিয় বা স্থায়ী অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। ড. ঠাক্কর বলেন, 'বাতাসে এই ভাইরাসগুলোর ভেসে বেড়ানো মূলত বৃষ্টি না হওয়ারই একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। একবার বর্ষা পুরোদমে শুরু হয়ে গেলে, এই সংক্রমণ বা কেসগুলো কমে আসবে বলে আশা করা যায়।' শহরে ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসার ঠিক একদিন পরেই মুম্বইয়ের বিভিন্ন অংশে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এদিকে, আইএমডি গত ২১ জুন মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টির জন্য ‘হলুদ’ ও 'কমলা’ অ্যালার্ট জারি করার পাশাপাশি গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকার সতর্কতাও দিয়েছিল।

যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সতর্ক করেছে যে, যে কোনও জলবায়ুতেই এই ভাইরাসের বিস্তারকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত, তবুও বিভিন্ন গবেষণায় শীতকালে কোভিড-১৯ এর সহজ ও দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অবশ্য এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে, গ্রীষ্মকালে এই রোগটি একেবারেই ভ্যানিশ বা অদৃশ্য হয়ে যাবে। ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড দ্য স্প্রেড অব কোভিড-১৯’ শীর্ষক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, 'গ্রীষ্মকালের উচ্চ তাপমাত্রা এবং তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি রেডিয়েশন মূলত ‘সার্স-কোভি-২’ রুখতে জনস্বাস্থ্যমূলক পদক্ষেপগুলোকে সাহায্য করে থাকে।' অন্য একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, 'উচ্চ তাপমাত্রায় কম সময় সংস্পর্শে থাকলে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কার্যকারিতা বা ক্ষমতা হ্রাস পায়।' একই সঙ্গে আরও যোগ করা হয়েছে যে, 'ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের তুলনায় সার্স-কোভি-২ ভাইরাসের বায়ুবাহিত সংক্রমণ উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী।'