Mumbai Police: 'মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেব!' আন্দোলনকারীদের হুমকি, বরখাস্ত মুম্বই পুলিশের আধিকারিক
Mumbai Police: সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়ের শিবাজী পার্ক, চেম্বুর এবং আজাদ ময়দানেও বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন থেকে আটক একদল পড়ুয়াকে নিয়ে যাওয়া পুলিশের প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকেই ওই ভিডিওটি করা হয়েছে।
Mumbai Police: বিক্ষোভকারী ছাত্রদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশকর্মীকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মুম্বইয়ে। এক্স-এ মুম্বই কংগ্রেসের শেয়ার করা ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে মুম্বই পুলিশ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়ের শিবাজী পার্ক, চেম্বুর এবং আজাদ ময়দানেও বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলন থেকে আটক একদল পড়ুয়াকে নিয়ে যাওয়া পুলিশের প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকেই ওই ভিডিওটি করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ভ্যানের সামনের সিটে বসা এক ইউনিফর্ম পরা পুলিশ কর্মী তরুণদের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলছেন, আবার আন্দোলনে ফিরলে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানো হবে এবং সারা জীবন জেলেই কাটাতে হবে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন যে বিক্ষোভে অংশ নিলে তাঁদের কাছে মাদক রেখে দেওয়া হবে এবং পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসে মুম্বই পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মীকে (চালক) তার বর্তমান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মুম্বই কংগ্রেসের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিওটিতে দেখা গেছে, পুলিশ ভ্যানে থাকা আটক একদল পড়ুয়াকে গাড়ির সামনের আসনে থাকা এক পুলিশ কর্মী শাসাচ্ছেন এবং বাড়ি ফিরে যেতে বলছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া সুরে বলেন, 'যদি আর কোনও দিন এখানে তোমাদের দেখা যায়, তবে আমি তোমাদের জীবন ধ্বংস করে দেব।' এরপর তিনি আরও বলেন, পড়ুয়াদের ব্যাগে মাদকদ্রব্য রেখে মিথ্যা মামলা দেওয়া হতে পারে। পুলিশ কর্মী বলেন, ‘তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম পাউডার রেখে দেব, আর তোমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে।’
ভিডিওটি পোস্ট করে মুম্বই কংগ্রেস ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়, তবে এটি শুধু ছাত্রদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আক্রমণ। নিজের মত প্রকাশ করা অপরাধ নয়। ছাত্রদের প্রশ্নের জবাব হুমকি দিয়ে নয়, জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত।’ এদিকে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে মুম্বই পুলিশের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিক্ষোভকারীদের ডিজিটাল নজরদারি এবং তাদের বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করা। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুসারে, মুম্বইয়ে ছাত্রদের আন্দোলন দমন করতে পুলিশ প্রশাসন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্র্যাকিং, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ‘হোয়াটসঅ্যাপ লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করার মতো নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু পড়ুয়াকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।
E-Paper

