Drug Kingpin Arrested: সীমান্ত পার চলত কোটি কোটি টাকার মাদক পাচার, বিদেশি ড্রাগ লর্ড গ্রেফতার ভারতে
দীর্ঘ কয়েক মাসের নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক রাজ্যে যৌথ অভিযানের পর মায়ানমার-ভিত্তিক এক কুখ্যাত মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। এই গ্রেফতারকে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
উত্তর-পূর্ব ভারতে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। দীর্ঘ কয়েক মাসের নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক রাজ্যে যৌথ অভিযানের পর মায়ানমার-ভিত্তিক এক কুখ্যাত মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। এই গ্রেফতারকে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

NCB জানিয়েছে, ধৃতের নাম নেংজাতুয়ান (Nengzatuan), যিনি তুয়ানপি (Tuanpi) নামেও পরিচিত। তিনি মায়ানমারের চিন (Chin) প্রদেশের হাইচিন এলাকার বাসিন্দা। তাঁকে মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, নেংজাতুয়ান দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমার থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের একটি বড় চক্র পরিচালনা করছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে মেথামফেটামিন ট্যাবলেট (ইয়াবা) এবং হেরোইনের চালান মায়ানমার থেকে মণিপুর, মিজোরাম, অসম এবং ত্রিপুরা হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও প্রতিবেশী বাংলাদেশে পাচার করা হতো।
NCB-র দাবি, ধৃত ব্যক্তি শুধু একজন পাচারকারী নন, বরং গোটা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের অন্যতম মূল সরবরাহকারী। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবিত পদার্থ আইন (NDPS Act)-এর অধীনে একাধিক মামলা রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নেংজাতুয়ান NCB-র তিনটি বড় মামলার প্রধান অভিযুক্ত। ওই মামলাগুলিতে মোট ২৮.২২ কেজি মেথামফেটামিন ট্যাবলেট এবং ১.২৭৮ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া এই মাদকের বাজারমূল্য ২৫ কোটিরও বেশি টাকা বলে জানিয়েছে NCB।
এতেই শেষ নয়। ধৃতের বিরুদ্ধে আরও সাতটি পৃথক NDPS মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলি মণিপুরের চুরাচাঁদপুর ও সিংনগাট থানার পুলিশ এবং রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (DRI) দায়ের করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করত। মায়ানমারে থাকা মূল সরবরাহকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে মাদক পাঠাত। এরপর বিশেষ কুরিয়ার, পরিবহণ সমন্বয়কারী, স্থানীয় সহযোগী, মাল গ্রহণকারী এবং আর্থিক লেনদেনের দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি মিলে গোটা পাচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করত। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক খুব দ্রুত বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যেত।
NCB জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত মাদক এবং পাচার থেকে অর্জিত অর্থ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৩ কোটিরও বেশি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এই চক্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে NCB। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন অসমের শিলচরের আবদুল্লা আহমেদ, যিনি রাজ্যে মাদকের চালান গ্রহণ ও বণ্টনের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া মণিপুরের চুরাচাঁদপুরের লালথলামুয়ং পুলামটে, ফেরজাওলের নেংগুলটিনখুম হ্রাংগুল এবং চুরাচাঁদপুরের পাওমিনলেন মুনলো-কেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে লালহমিংসাঙ্গা এবং মে মাসে থানসিন্তুয়াং ওরফে চিন্তুয়াং ওরফে ত্লুয়াঙ্গা নামে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল NCB। নেংজাতুয়ানের গ্রেফতার সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এই গ্রেফতারের ফলে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে চলা আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র বড় ধাক্কা খেল। NCB জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


