NCP Split Speculation Update: মহারাষ্ট্রে এনসিপিতে ফের চিড় ধরবে? ফড়নবীসের সঙ্গে একের পর এক বৈঠকে জল্পনা তুঙ্গে

বুধবার গভীর রাতে এনসিপির বর্ষীয়ান নেতা প্রফুল পটেল এবং সুনীল তটকরের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তার পরদিনই ফড়নবীসের সরকারি বাসভবনে যান অজিত পাওয়ারের ছেলে তথা দলের সাংসদ পার্থ পাওয়ার। 

Published on: Jul 17, 2026, 10:04:27 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

NCP Split Speculation Update: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। সুনেত্রা পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপির অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। একই সঙ্গে শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি)-তেও অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে দুই শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতার ধারাবাহিক বৈঠক নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। (HT_PRINT)
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোর চর্চার কেন্দ্রে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)। (HT_PRINT)

বুধবার গভীর রাতে এনসিপির বর্ষীয়ান নেতা প্রফুল পটেল এবং সুনীল তটকরের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তার পরদিনই ফড়নবীসের সরকারি বাসভবনে যান অজিত পাওয়ারের ছেলে তথা দলের সাংসদ পার্থ পাওয়ার। যদিও বৈঠকের বিষয়ে সরকার বা এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

দলীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফড়নবীসের সঙ্গে প্রফুল পটেল ও সুনীল তটকরের বৈঠক নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন পার্থ পাওয়ার। তবে এই বৈঠক দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, প্রফুল পটেল ও সুনীল তটকরের সঙ্গে ফড়নবীসের বৈঠকের কথা জানতে পেরে দলের প্রধান তথা উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার সুনীল তটকরের কাছে ব্যাখ্যা চান। যদিও তটকরে দাবি করেন, বৈঠকটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক কারণে হয়েছিল, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে সুনেত্রা পাওয়ারকে আলাদা করে জানানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেননি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর থেকেই এনসিপির অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর সুনেত্রা পাওয়ার দলের প্রধান হন এবং রাজ্য সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও গ্রহণ করেন। পরে তিনি রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিলে সেই আসনে মনোনয়ন পান পার্থ পাওয়ার।

তবে দলের একাংশের অভিযোগ, পার্থ পাওয়ারের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে অসন্তুষ্ট প্রফুল পটেল ও সুনীল তটকরে। তাঁদের মতে, দলের নেতৃত্বে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

দলের অন্দরের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়, যখন এনসিপির জাতীয় সম্পাদক সচিদানন্দ সিং প্রকাশ্যে সুনেত্রা পাওয়ারের দলীয় সভাপতির পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, সুনেত্রার নির্বাচন আইনসম্মত নয় এবং সেই প্রক্রিয়া বাতিলযোগ্য।

এদিকে শুধু শাসক এনসিপির নেতারাই নন, শরদ পাওয়ার শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা জয়ন্ত পাটিলও প্রায় একই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবীসের সঙ্গে বৈঠক করেন। ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নেতাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একের পর এক বৈঠক রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই বৈঠকগুলি নিছক কাকতালীয় নয়। এক প্রাক্তন বিধায়কের কথায়, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর তিন শীর্ষ নেতা একই রাতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলে তা শুধুই প্রশাসনিক বিষয় বলে বিশ্বাস করা কঠিন।

এরই মধ্যে দুই এনসিপি শিবিরের সম্ভাব্য পুনর্মিলন কিংবা প্রফুল পটেল-সুনীল তটকরের নেতৃত্বে একাংশের এনডিএ-তে যোগদানের জল্পনাও ছড়িয়েছে। যদিও সুনীল তটকরে স্পষ্ট জানিয়েছেন, অজিত পাওয়ার জীবিত থাকাকালীন দুই শিবিরের এক হওয়ার আলোচনা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সেই প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গিয়েছে।

অন্যদিকে শরদ পাওয়ার শিবিরও সম্ভাব্য দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। দলের সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন, তাঁদের দল ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গেই রয়েছে এবং অবস্থান বদলের কোনও প্রশ্নই নেই। তবে ধারাবাহিক এই বৈঠক ও দলীয় কোন্দল ঘিরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে জল্পনার পারদ যে ক্রমেই চড়ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More