NEET 2026 Question Paper Leak: দেশজুড়ে নিট বিতর্ক থামার নাম নেই। পরীক্ষা বাতিলের পর সিবিআই তদন্তে প্রতিদিনই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি জয়পুরের জমওয়ারামগড় এলাকার বিওয়াল পরিবারের কীর্তি সামনে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করতে যার কালঘাম ছুটে গিয়েছিল, তার বাবাই লাখ-লাখ টাকা খরচ করে নিটের প্রশ্নপত্র কিনেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
দ্বাদশের মার্কশিটে করুণ দশা

রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্ত ছাত্র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় কোনওমতে দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেছিল - ‘গ্রেস মার্কস’ তথা অতিরিক্ত নম্বরের সুবাদে। দ্বাদশ শ্রেণির থিওরি পরীক্ষার নম্বর শুনলে যে কেউ অবাক হবেন। ফিজিক্সে পেয়েছিল মাত্র ৯ নম্বর। কেমিস্ট্রিতে ১৫ এবং বায়োলজিতে ২০। অর্থাৎ, বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়ে ন্যূনতম দখল না থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার হওয়ার দৌড়ে শামিল হয়েছিল।
১০ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল ভবিষ্যৎ
সিবিআই জেরায় ওই ছাত্রের বাবা দীনেশ বিওয়াল স্বীকার করেছেন যে, তিনি তাঁর ছেলে এবং ভাইপোর জন্য মোটা টাকা খরচ করে প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছিলেন। দীনেশের বয়ান অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রায় ১৫ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র তাঁদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল। এই কারসাজির জন্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। মূলত একটি অ্যাপ এবং পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে এই প্রশ্নপত্র পাচার করা হয়েছিল।
লিক হওয়া প্রশ্ন পেয়েও মেলেনি সাফল্য
{{/usCountry}}লিক হওয়া প্রশ্ন পেয়েও মেলেনি সাফল্য
{{/usCountry}}সংবাদমাধ্যম আজতকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরীক্ষার আগের রাতে হাতে প্রশ্ন এবং উত্তর পেয়েও ওই ছাত্র নিট পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারেনি। ৬০০-র বেশি নম্বর পাওয়ার লক্ষ্যে প্রশ্ন কেনা হলেও পরীক্ষায় মাত্র ১০৭ নম্বর পেয়েছিল। লিক হওয়া প্রশ্ন পাওয়া সত্ত্বেও এমন ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে সংশ্লিষ্ট ছাত্রটির মেধা কোন স্তরে ছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের প্রশ্ন— যদি প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সামনে না আসত এবং কোনওভাবে ওই ছাত্র ডাক্তারিতে সুযোগ পেয়ে যেতেন, তবে মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা কোথায় থাকত?
কোচিং সেন্টার ও বড়সড় নেটওয়ার্কের হদিশ
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই প্রশ্ন ফাঁসের নেটওয়ার্ক কেবল ওই ছাত্র বা তার পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজস্থানের সিকারের একাধিক কোচিং সেন্টারের ছাত্রছাত্রীদের কাছেও এই প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। দীনেশ বিওয়াল জনৈক রাকেশ মন্দাবরিয়ার মাধ্যমে এই লিক হওয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এখন সিবিআই খতিয়ে দেখছে এই চক্রের মূল উৎস কোথায়।