UPSC Civil Services Success Story: 'বড় কালেক্টর নাকি?', ডাক্তারির সময় কটাক্ষ শুনে চাপে জেদ, IAS হলেন প্রিয়াঙ্কা
UPSC Civil Services Success Story: প্রিয়াঙ্কা শুক্লার মনে এক মহিলার বলা কথা এমনভাবে বিঁধেছিল যে তিনি ডাক্তারি ছেড়ে আইএএস অফিসার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আজ তিনি আইএএস অফিসার। সাফল্যের সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছেন।
UPSC Civil Services Success Story: জীবনের মোড় কখন কোন দিকে ঘুরবে, তা কেউ জানে না। অনেক সময় মানুষের সামান্য একটি কথা বা তাচ্ছিল্য জেদকে এমন এক শিখরে নিয়ে যায়, যা অবিশ্বাস্য সাফল্য এনে দেয়। আইএএস (IAS) প্রিয়াঙ্কা শুক্লার জীবনকাহিনী ঠিক তেমনই এক রূপকথার মতো, যেখানে একজন সফল এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তার সমাজের উপহাসকে হাতিয়ার করে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি (UPSC) জয় করেছেন।

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ও সাফল্য
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা শুক্লা ছোটোবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। তাঁর বাবা-মা চাইতেন মেয়ে প্রশাসনিক কাজে আসুক। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার ঝোঁক ছিল ডাক্তারির দিকে। নিজের স্বপ্নপূরণ করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং লখনউয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি’ থেকে ২০০৬ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ডাক্তার হওয়ার পর লখনউতেই তিনি প্র্যাকটিস শুরু করেন।
সেই অভিশপ্ত অথচ আশীর্বাদের মুহূর্ত
ডাক্তারি করার সময় প্রিয়াঙ্কা প্রায়শই বিভিন্ন বস্তি এলাকায় গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কাজ করতেন। এমনই একদিন একটি বস্তিতে গিয়ে তিনি দেখেন এক মহিলা নিজে নোংরা জল খাচ্ছেন এবং তাঁর সন্তানদেরও সেই জল খাওয়াচ্ছেন। ডাক্তার হিসেবে প্রিয়াঙ্কা তাঁকে বাধা দেন এবং পরিষ্কার জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই মহিলা প্রিয়াঙ্কার ওপর রেগে যান এবং বলেন, ‘তুমি কি কোথাওকার বড় কালেক্টর (DM) হয়েছ নাকি যে তোমার কথা শুনতে হবে?’
মহিলার সেই কথা প্রিয়াঙ্কার অন্তরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। তিনি উপলব্ধি করেন যে, একজন ডাক্তার হিসেবে তিনি রোগের চিকিৎসা করতে পারেন, কিন্তু সিস্টেমের পরিবর্তন করতে গেলে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গেলে প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োজন। সেই মুহূর্তেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন আইএএস অফিসার হওয়ার।
ইউপিএসসি যাত্রা ও অভাবনীয় সাফল্য
একটি প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার মনে তখন জেদ চেপে বসেছে। তিনি দিনরাত এক করে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় সফল না হলেও দমে যাননি তিনি। অবশেষে ২০০৯ সালে নিজের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রিয়াঙ্কা শুক্লা সারা ভারতে ৭৩ত ম র্যাঙ্ক অর্জন করে আইএএস অফিসার হন।
প্রশাসনিক সাফল্য ও জনসেবা
আইএএস হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কাকে ছত্তিশগড় ক্যাডার দেওয়া হয়। জশপুর জেলার জেলাশাসক (DM) হিসেবে তাঁর কাজ দারুণভাবে প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতায় তিনি অভূতপূর্ব অবদান রেখেছেন। জশপুরে ‘যশস্বী জশপুর’ শিক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি পিছিয়ে পড়া শিশুদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে ‘রজত পদক’ এবং ‘জাতীয় সাক্ষরতা পুরস্কার’ লাভ করেছেন। সম্প্রতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি ‘মেরা যুবা ভারত’ (MY Bharat)-এর প্রথম সিইও (CEO) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
বহুমুখী প্রতিভা
প্রিয়াঙ্কা শুক্লা কেবল একজন দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাই নন, তিনি একজন দক্ষ সমসাময়িক নৃত্যশিল্পী, কবি এবং চিত্রশিল্পীও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বেশ সক্রিয় এবং তাঁর অনুপ্রেরণামূলক পোস্টগুলি লাখ-লাখ তরুণ-তরুণীকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


