UPSC Civil Services Sucess Tips: তিনবার UPSC প্রিলিমস পাশ করতে পারেননি, তারপর IAS 'টপার', কীভাবে বাজিমাত প্রাচীর?
UPSC Civil Services Sucess Tips: মুজাফফরপুরের প্রাচী হানি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ২৮ তম স্থান অধিকার করেছেন। ইউপিএসসি প্রিলিমিনারিতে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর চতুর্থ চেষ্টায় সাফল্য পান তিনি।
UPSC Civil Services Sucess Tips: কথায় আছে ‘চেষ্টা করলে অসাধ্য সাধন করা সম্ভব’- এই প্রবাদটিকেই বাস্তবে রূপ দিলেন বিহারের মুজফ্ফরপুরের মেয়ে প্রাচী হানি। ২০২৫ সালের UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ২৮ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি আজ বিহারের গর্ব হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘ ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম এবং ডিজিটাল দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার এক চরম লড়াই।

সাফল্যের প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক পরিচয়
তাঁর বাবা একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মা একজন শিক্ষিকা। দুই বোনের মধ্যে বড় প্রাচী ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। মুজফ্ফরপুরের ডিএভি পাবলিক স্কুল থেকে দশম এবং হোলি ক্রস পাবলিক স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পরে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য দিল্লি যান। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কালিন্দি কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক হওয়ার সময়ই তাঁর মনে সিভিল সার্ভিসের স্বপ্ন দানা বাঁধে।
প্রিলিমসের হ্যাটট্রিক ব্যর্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানো
২০২২ সাল থেকে প্রাচী UPSC দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু প্রথম তিনবারই তাঁর জন্য ছিল বড় ধাক্কা। পরপর তিন বছর তিনি প্রিলিমস পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অনেকের ক্ষেত্রেই এই পর্যায়ে মনোবল ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রাচী হার মানেননি। তিনি নিজের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করেন এবং চতুর্থ প্রচেষ্টার জন্য নতুন রণকৌশল তৈরি করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, শুধু পড়াশোনা নয়, প্রস্তুতির ধরণ এবং ফোকাস পরিবর্তন করা জরুরি।
ডিজিটাল বৈরাগ্য: সাফল্যের গোপন চাবিকাঠি
আজকের দিনে যখন সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন, তখন প্রাচী এক অনন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রস্তুতির দিনগুলোতে তিনি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম তো দূরস্ত, হোয়াটসঅ্যাপ পর্যন্ত ব্যবহার করেননি। তাঁর ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল শুধুমাত্র পড়াশোনার প্রয়োজনে তথ্য খোঁজার জন্য। অপ্রয়োজনীয় সব ধরণের ডিস্ট্রাকশন থেকে নিজেকে দূরে রাখাই তাঁকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছে।
প্রস্তুতির কৌশল ও সেলফ স্টাডি
প্রাচী জানিয়েছেন, দিল্লির নামী কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলেও তাঁর মূল শক্তি ছিল ‘সেলফ স্টাডি’। তিনি প্রতিদিন প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা সময় দিতেন পড়াশোনায়। তাঁর ঐচ্ছিক বিষয় ছিল ভূগোল। তিনি জানান, এনসিইআরটি (NCERT) বইয়ের মাধ্যমে ভিত শক্ত করা এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (PYQs) সমাধান করা ছিল তাঁর প্রস্তুতির অন্যতম অংশ। চতুর্থ প্রচেষ্টায় প্রিলিমস পাষ করার পর তিনি প্রথমবারের মতো মেইনস (Mains) পরীক্ষা দেন এবং প্রথম সুযোগেই মেইনস ও ইন্টারভিউ ক্লিয়ার করে সরাসরি র্যাঙ্ক লিস্টে জায়গা করে নেন।
ইন্টারভিউয়ের মজাদার অভিজ্ঞতা
প্রাচীর ভ্রমণ করার বেশ শখ। ইন্টারভিউ বোর্ডে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, ভারতের বাইরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ পেলে তিনি কোথায় যেতে চাইবেন? প্রাচী উত্তর দিয়েছিলেন—'আইসল্যান্ড'। এই উত্তরটি বোর্ড মেম্বারদের বেশ প্রভাবিত করেছিল। প্রাচীর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন শুরুর সুযোগ। তাঁর মতে, ‘সঠিক সিলেবাস বোঝা এবং নিয়মিত রিভিশনই সাফল্যের একমাত্র পথ। নিজের ওপর বিশ্বাস হারানো চলবে না।’
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


