UPSC Civil Services Mental Tips: ০.২ নম্বরের জন্য CSAT-এ 'ফেল', কীভাবে হতাশ না হয়েও ৫ চেষ্টায় UPSC-তে সফল সৃষ্টি?
UPSC Civil Services Mental Tips: ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সি-স্যাট পেপারে একবার মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য পাশ করতে পারেননি। এরকম একটু ব্যবধানের জন্য অধরা থেকে গিয়েছিল আরও পরীক্ষা। সেই সৃষ্টি গোয়েল কীভাবে মানসিক ধাক্কা সামলে বাজিমাত করলেন?
ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার দীর্ঘ যাত্রায় মেধা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই বেশি জরুরি হল ধৈর্য এবং মানসিক দৃঢ়তা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের মেয়ে সৃষ্টি গোয়েল সেই দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ। কখনও প্রিলিমিনারি পাশ করতে না পারা, আবার কখনও সি-স্যাট (CSAT) পেপারে মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার —সব বাধা অতিক্রম করে নিজের পঞ্চম প্রচেষ্টায় সর্বভারতীয় ১৬০ তম র্যাঙ্ক অর্জন করেছেন তিনি। সৃষ্টির এই যাত্রা হার না মানা জেদ এবং পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দলিল।

ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে সমাজসেবার আঙিনায়
সৃষ্টির প্রাথমিক পড়াশোনা এবং কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং গোয়ালিয়র থেকেই। পেশায় ব্যবসায়ী বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে সিভিল সার্ভিসে দেখা। কলেজের দিনগুলোতে এনজিওয়ের হয়ে কাজ করতে গিয়ে সৃষ্টি সমাজের নিচুতলার মানুষের সমস্যার সম্মুখীন হন। প্রায় তিন বছর বিভিন্ন স্তরের মানুষের অভাব-অভিযোগ দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে সমাজব্যবস্থায় প্রকৃত পরিবর্তন আনতে গেলে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই শুরু হয় ইউপিএসসির প্রস্তুতি।
বারবার স্বপ্নভঙ্গ এবং ০.২ নম্বরের যন্ত্রণাদায়ক হার
সৃষ্টির ইউপিএসসি সফর মোটেই মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালে খুব সামান্য নম্বরের জন্য প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। ২০২২ সালে ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছালেও চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাননি। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছিল ২০২৩ সালে। সেই বছর প্রিলিমিনারির সি-স্যাট পেপারে মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু UPSC নয়, RBI গ্রেড-বি পরীক্ষাতেও মাত্র ০.২ নম্বরের জন্য তিনি সুযোগ মেলেনি। মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষায় এক নম্বরের জন্য বাদ পড়েন। বারবার সাফল্যের খুব কাছে গিয়ে ফিরে আসা যে কোনও শিক্ষার্থীর জন্যই অত্যন্ত হতাশাজনক। সৃষ্টি নিজেও একসময় ভেঙে পড়েছিলেন এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপের শিকার হয়েছিলেন। এমনকী অসুস্থতার কারণে একবার মেনস পরীক্ষাও দিতে পারেননি তিনি।
দিল্লিতে প্রস্তুতি এবং সাফল্যের চাবিকাঠি
সৃষ্টি বুঝতে পেরেছিলেন যে কেবল বই পড়লেই হবে না, পরীক্ষার চাপ সামলানোর কৌশল রপ্ত করতে হবে। মেনস পরীক্ষার ঠিক এক মাস আগে তিনি দিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি বা দুটি করে মক টেস্ট দিতে শুরু করেন। এই অনুশীলন তার লেখার গতি বাড়াতে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে এবং উত্তর উপস্থাপনায় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মেন্টরদের পরামর্শে তিনি নিজের ভুলগুলো শুধরে নেন।
ইন্টারভিউ বোর্ডে বুদ্ধিমত্তা ও ভারসাম্য
পঞ্চম প্রচেষ্টায় সৃষ্টি যখন ইন্টারভিউ বোর্ডে পৌঁছান, তখন তার লক্ষ্য ছিল শান্ত থাকা। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ‘যদি কোনও ভিনগ্রহের প্রাণী পৃথিবীকে দেখে, তবে মানুষের কোন তিনটি ভুল তার কাছে সবচেয়ে ভয়ংকর মনে হবে?’ এছাড়াও একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে হিংসা দমনের মতো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং যুক্তিনির্ভর উত্তর দিয়ে বোর্ড সদস্যদের মুগ্ধ করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


