Success Story: NEET-তে ৩ ধাক্কা, JEE-তেও তেমন র‌্যাঙ্ক হয়নি, কেরিয়ার পালটে দারুণ চাকরি সঞ্জয়ের

Success Story:  সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) তিনবার ধাক্কা খান। সর্বভারতীয় জয়েন্ট প্রবেশিকার (জেইই মেন) পরীক্ষায় মনের মতো র‌্যাঙ্ক হয়নি। সেখান থেকে কেরিয়ার পালটে বাজিমাত করলেন সঞ্জয় বি। কী টিপস দিলেন? 

Published on: Jun 28, 2026, 14:55:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Success Story: আজকের যুগে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা (নিট) বা সর্বভারতীয় জয়েন্ট প্রবেশিকার (জেইই মেন) মতো পরীক্ষায় মনের মতো ফলাফল না হলে অনেকেই ভেঙে পড়েন। সমাজের বাঁকা নজরও সেই হতাশাকে বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু একটি পরীক্ষা কখনও কারওজীবনের শেষ কথা হতে পারে না। এই ধ্রুবসত্যকে নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন সঞ্জয় বি কে। তিনবার নিট পরীক্ষায় ব্যর্থতা, জেইই মেইন বা অ্যাডভান্সে তথাকথিত ভালো র‍্যাঙ্ক না করেও আজ তিনি পুণের একটি নামী সংস্থায় সফল ‘ডেটা সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি লিঙ্কডউনে নিজের এই অদম্য জীবনযুদ্ধের কাহিনী শেয়ার করেছেন সঞ্জয় বি, যা রাতারাতি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

অনুপ্রেরণার আর এক নাম সঞ্জয় বি। (ছবি সৌজন্যে, Linkedin Sanjay B)
অনুপ্রেরণার আর এক নাম সঞ্জয় বি। (ছবি সৌজন্যে, Linkedin Sanjay B)

হতাশা ও একাকীত্বের সেই অন্ধকার দিনগুলি

সঞ্জয়ের কেরিয়ারের এই পথ মসৃণ ছিল না। দ্বাদশ শ্রেণির পর থেকে তাঁর জীবন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত—প্রায় দীর্ঘ ২০ মাস তিনি নিজেকে সমস্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মোবাইল ফোন থেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছিলেন। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি সরকারি মেডিকেল সিট পাওয়া। সঞ্জয় তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘উৎসবের দিনগুলো কেটে যেত। ঋতু পরিবর্তন হত। কিন্তু আমার রুটিনে কোনও বদল আসত না। আমি ক্লান্ত, একাকী এবং ভীষণ ভীত অবস্থায় দিনরাত শুধু পড়াশোনা করে যেতাম।’

২০ ২১ সাল এবং ২০২২ সালের দু'বার নিট দিয়েছিলেন। কিন্তু কাঙ্খিত ফল মেলেনি। সঞ্জয় জানিয়েছেন যে বাবা-মায়ের মনে অনেক আশা থাকায় নিজের মনের কষ্ট বা হতাশার কথা তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল। এই সময়ে তাঁর সহপাঠী ও বন্ধুরা যখন বিভিন্ন নামী কলেজে ভর্তি হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন নিজেকে ভীষণ একা এবং পরিবারের ওপর একটি 'বোঝা' বলে মনে হত তাঁর। কিন্তু এই চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যেও সঞ্জয় সম্পূর্ণভাবে হার মানেননি।

জীবিকার তাগিদে লড়াই এবং কাজের ফাঁকে পড়াশোনা

পরবর্তী নিট পরীক্ষার আগে যখন হাতে মাত্র ছয় থেকে সাত মাস সময় বাকি, তখন সঞ্জয় সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি একটি চাকরি খুঁজবেন। তবে এই পথটিও সহজ ছিল না। একের পর এক রিজেকশন বা প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। পাঁচটি ভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দেওয়ার পর তিনি সেলসকর্মীর চাকরি পান।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: প্রথম অ্যাটেম্পটেই র‍্যাঙ্ক ১৩, বিনা কোচিংয়ে কীভাবে ২১ বছরে UPSC-তে সফল বিদূষী?

চাকরি পাওয়ার পর সঞ্জয়ের লড়াই আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। কাজ এবং পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তিনি প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় ব্যাগে করে বই নিয়ে যেতেন। কাজের ফাঁকে ছোটখাটো ব্রেক বা লাঞ্চের সময়েও তিনি পড়াশোনা করতেন। পরীক্ষার ঠিক আগে তিনি আনপেড লিভ নেন এবং নিজের পড়াশোনার কৌশল সম্পূর্ণ পরিবর্তন করেন। এই কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তাঁর তৃতীয়বার নিটে তিনি ৪৫০-এর বেশি নম্বর অর্জন করতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: মিড ডে মিল রান্না করতেন মা, ছেলে UPSC সিভিল সার্ভিসেসে করলেন কামাল, হলেন IAS

আইআইটি মাদ্রাজ এবং কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট

তৃতীয় অ্যাটেম্পটে নিট স্কোরের উন্নতি হলেও, পরিবারের আর্থিক অনটন এবং বয়সের কারণে সঞ্জয়ের পক্ষে আর মেডিকেল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব ছিল না। এই সময়েই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্টটি আসে। তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) মাদ্রাজের 'বিএস ইন ডেটা সায়েন্স' প্রোগ্রামের বিষয়ে জানতে পারেন।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: ক্ষেতে কাজ থেকে সেলাই মায়ের- প্রথমবারেই IPS হলেন সেই মেয়ে দিব্যা, ২২ বছরে IAS

এই কোর্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল যে তাতে ভরতির জন্য জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় কোনও র‍্যাঙ্কের প্রয়োজন হয় না, বরং আইআইটি মাদ্রাজের নিজস্ব একটি কোয়ালিফায়ার পরীক্ষা পাশ করতে হয়। ২০২২ সালের অক্টোবরে সেই কোয়ালিফায়ার পরীক্ষায় পাশ করেন সঞ্জয়। সেই কোর্সের পরে পুণেতে ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কেরিয়ার গড়েছেন।

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে সঞ্জয়ের মূল্যবান বার্তা

প্রার্থীদের পরামর্শ দিয়ে সঞ্জয় বলেছেন, ‘কখনও একটি মাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলাভলের ওপর ভিত্তি করে নিজের যোগ্যতা বিচার কর না। কোনও পরীক্ষাই তোমার জীবনের আসল মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না। যদি কোনও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাও, তাহলে কারও সঙ্গে কথা বল। মনে রাখবে, তোমার গল্প এখনও শেষ হয়ে যায়নি।’

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More