UPSC Civil Services Success Story: ক্ষেতে কাজ থেকে সেলাই মায়ের- প্রথমবারেই IPS হলেন সেই মেয়ে দিব্যা, ২২ বছরে IAS
UPSC Civil Services Success Story: দিনে ক্ষেতে কাজ করতেন মা। রাতে সেলাইয়ের কাজ করতেন। সেই মায়ের মেয়ে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বাজিমাত করেছেন। ২১ বছরে হয়েছেন আইপিএস অফিসার। আইএএস হয়েছেন ২২ বছরেই।
UPSC Civil Services Success Story: ইচ্ছে আর কঠোর পরিশ্রম যদি মানুষের সঙ্গী হয়, তবে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে বাধ্য। এই প্রবাদটিকেই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন হরিয়ানার এক প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে দিব্যা তনওয়ার। তাঁর সাফল্যের কাহিনী কেবল একটি কঠিন পরীক্ষা পাশ করার গল্প নয়; বরং এটি চরম দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিকূলতা এবং এক মায়ের অদম্য লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল। সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যা মাত্র ২১ বছরে আইপিএস এবং পরের বছর আইএএস অফিসার হয়েছেন। ছোটোবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। মা দিনের বেলায় ক্ষেতে কাজ করতেন। রাতে সেলাইয়ের কাজ করতেন মা।

দিব্যা ছোটোবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। গ্রামের সরকারি স্কুলেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। এরপর নিজের প্রতিভার জোরে তিনি জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। স্কুল পাশ করার পরে তিনি একটি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। স্কুলে পড়ার সময় একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন এক মহকুমা শাসক। সেই অফিসারকে দেখে ছোট্ট দিব্যার মনে প্রথম প্রশাসনিক অফিসার হওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে এবং মায়ের ওপর থেকে কিছুটা আর্থিক চাপ কমাতে দিব্যা ছোটো বাচ্চাদের টিউশন পড়ানোও শুরু করেছিলেন।
দামি কোচিং বা ইন্টারনেট ছাড়াই কেল্লাফতে
কোনও নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ সেলফ স্টাডি এবং ইন্টারনেটের কিছু নিখরচায় পাওয়া স্টাডি মেটেরিয়ালের ওপর ভরসা করে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হিন্দি মাধ্যমকে এবং এনসিইআরটি বইগুলোকে নিজের প্রস্তুতির মূল ভিত্তি বানিয়ে প্রতিদিন টানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।
প্রথমবারেই ২১ বছর বয়সে IPS, ২২-এ IAS এর মুকুট
দিব্যার এই কঠোর তপস্যার ফল মিলেছিল ২০২১ সালে। মাত্র ২১ বছরেই নিজের প্রথম অ্যাটেম্পটে ৪৩৮ তম র্যাঙ্ক করে ইউপিএসসি ক্র্যাক করেন তিনি। দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ মহিলা আইপিএস অফিসার হন দিব্যা। তিনি মণিপুর ক্যাডারে ছিলেন। তাঁর ট্রেনিংও শুরু করে দিয়েছিলেন।
কিন্তু দিব্যার মূল লক্ষ্য ছিল আইএএস হওয়ার। আইপিএসের কঠিন ট্রেনিং ও কর্তব্যের মাঝেই তিনি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। নিজের জেদ ও পরিশ্রমের জোরে ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় তিনি অভাবনীয় সাফল্য পান। এবার ভারতে ১০৫ তম র্যাঙ্ক অর্জন করে মাত্র ২২ বছরে নিজের স্বপ্নপূরণ করে আইএএস অফিসার হন দিব্যা।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


