Balen Shah: দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ, সীমান্তে ক্ষোভ! সঙ্কটে নেপালের নতুন সরকার

Balen Shah: রাজনৈতিক এই অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ভারত-নেপাল সীমান্ত নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Published on: Apr 23, 2026, 13:43:31 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Balen Shah: গত মাসের শেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছিল নেপাল। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন জেন জি-র ‘পোস্টার বয়’ এবং প্রাক্তন র‍্যাপার বলেন্দ্র শাহ। কিন্তু ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি।

সঙ্কটে নেপালের নতুন সরকার
সঙ্কটে নেপালের নতুন সরকার

নয়া সরকারে ফাটল?

জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের সমর্থনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৩৫ বছর বয়সি প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর প্রশাসনে এখন অস্থিরতা তুঙ্গে। মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে দুজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগ শাহর সংস্কারবাদী ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) স্বচ্ছ শাসনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে এখন খোদ জনমনেই সংশয় দেখা দিচ্ছে।

পদত্যাগ বিশ্বাসযোগ্যতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে

নেপাল সরকারের এই টালমাটাল অবস্থায় সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। তার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠায় নৈতিকতার দায়বদ্ধতা থেকে তিনি পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন। গুরুং তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, 'পদের চেয়ে নৈতিকতা অনেক বড়' এবং জনজীবনে স্বচ্ছতা থাকা বাধ্যতামূলক। এর মাত্র কয়েক দিন আগে সে দেশের শ্রমমন্ত্রী দীপক কুমার শাহ দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নিজের পদের অপব্যবহার করে স্ত্রীকে স্বাস্থ্য বিমা বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। শপথ নেওয়ার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় দলের চাপের মুখে পড়ে তাঁকে বিদায় নিতে হয়। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী বরেন্দ্র শাহ নিজেই সামলাচ্ছেন।

সীমান্ত নীতি ও ক্ষোভ

রাজনৈতিক এই অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ভারত-নেপাল সীমান্ত নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারত থেকে ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্য আনলেই এখন শুল্ক দিতে হবে। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে পণ্য বাজেয়াপ্ত করার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন। ফলে অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনরোষও। এছাড়া এই নির্দেশের কোনও আনুষ্ঠানিক নথি আছে কিনা, তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়াচ্ছে

নেপালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার জেরে নেপালে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫০ থেকে বেড়ে ২২৫ রুপি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি আর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির সূচকে ১০৯তম অবস্থানে থাকা নেপালের বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ এখন গভীর পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৬৫টি দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ১৬৫টি আসনে। সেই নির্বাচনে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির উত্থান ছিল অপ্রত্যাশিত। তবে ক্ষমতায় আসার পর এত দ্রুত এই ধরনের জনবিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, তা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।