Maximum Weekly Working Hoursসপ্তাহে এবার ৪ দিন কাজ করে ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে? কী বলছে নতুন শ্রমবিধি

এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার খবরে চাকুরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজের সময়সীমা নিয়ে। সপ্তাহে কি এখন আগের চেয়ে বেশি কাজ করতে হবে? নাকি সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে?

Published on: Nov 25, 2025, 13:16:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের নতুন শ্রমবিধি বা 'নিউ লেবার কোড' (New Labour Code) বাস্তবায়নের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার খবরে চাকুরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজের সময়সীমা নিয়ে। সপ্তাহে কি এখন আগের চেয়ে বেশি কাজ করতে হবে? নাকি সপ্তাহে ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে?

সপ্তাহে এবার ৪ দিন কাজ করে ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে?
সপ্তাহে এবার ৪ দিন কাজ করে ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে?

নতুন শ্রমনীতিতে ‘ম্যাক্সিমাম উইকলি ওয়ার্কিং আওয়ার্স’ বা সাপ্তাহিক কাজের সর্বোচ্চ সময়সীমা নিয়ে কী বলা হয়েছে, তা জেনে নিন।

সাপ্তাহিক কাজের সময়সীমা: ৪৮ ঘণ্টার নিয়ম (48-Hour Rule)

নতুন শ্রমবিধির খসড়া অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট কাজের ঘণ্টার ওপর কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।

  • সর্বোচ্চ সীমা: একজন কর্মচারীর জন্য সপ্তাহে কাজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টাই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তাহে মোট ৪৮ ঘণ্টার বেশি সাধারণ ডিউটি করানো যাবে না।

তবে পরিবর্তন কোথায়? (দৈনিক কাজের সময় ও ছুটির অঙ্ক)

সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা ঠিক থাকলেও, দৈনিক কাজের সময়সীমা বা শিফটের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বা ফ্লেক্সিবিলিটি আনা হয়েছে। এখানেই ‘৪ দিন কাজ ও ৩ দিন ছুটি’র বিষয়টি উঠে আসছে।

১. ১২ ঘণ্টার শিফট ও ৩ দিন ছুটি: নতুন নিয়মে কোম্পানিগুলো চাইলে দৈনিক কাজের সময় ৮ বা ৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করতে পারে।

  • যদি কোনো কর্মচারী দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন, তবে তাঁকে সপ্তাহে মাত্র ৪ দিন কাজ করতে হবে (১২ ঘণ্টা × ৪ দিন = ৪৮ ঘণ্টা)।
  • বিনিময়ে তিনি সপ্তাহে ৩ দিন সবেতন ছুটি (Paid Leave) পাবেন।

২. ১০ ঘণ্টার শিফট ও ৩ দিন ছুটি: যদি দৈনিক কাজের সময় ১০ ঘণ্টা করা হয়, তবে সপ্তাহে প্রায় ৫ দিন কাজ করতে হবে।

৩. ৮ ঘণ্টার শিফট ও ১ দিন ছুটি: পুরানো নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করেন, তবে তাঁকে সপ্তাহে ৬ দিন কাজ করতে হবে এবং ১ দিন সাপ্তাহিক ছুটি পাবেন (৮ ঘণ্টা × ৬ দিন = ৪৮ ঘণ্টা)।

ওভারটাইম (Overtime) নিয়ে কী নিয়ম?

নতুন শ্রমবিধিতে ওভারটাইমের নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে।

  • সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বা দৈনিক নির্ধারিত শিফটের চেয়ে বেশিক্ষণ কাজ করলে, অতিরিক্ত সময়ের জন্য কর্মচারীকে দ্বিগুণ হারে (Double) ওভারটাইম পেমেন্ট দিতে হবে।
  • পূর্বে অনেক ক্ষেত্রে ওভারটাইমের হিসাব রাখা হতো না, কিন্তু নতুন নিয়মে কাজের সময়ের প্রতিটি মিনিটের হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

কর্মচারীদের সম্মতি জরুরি

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোম্পানি চাইলেই জোর করে ১২ ঘণ্টার শিফট চাপিয়ে দিতে পারবে না। ১২ ঘণ্টা কাজের শিফট চালু করতে হলে কর্মচারীদের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন হবে। নতুন শ্রমবিধির মূল লক্ষ্য হলো কাজের সময় ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য (Work-Life Balance) বজায় রাখা।

নতুন শ্রমনীতিতে সাপ্তাহিক কাজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টাই থাকছে। পরিবর্তন শুধু দৈনিক কাজের বন্টনে। আপনি চাইলে দিনে বেশি সময় কাজ করে সপ্তাহে ৩ দিন ছুটির সুবিধা নিতে পারেন, অথবা পুরনো নিয়মেই চলতে পারেন—এটি মূলত কোম্পানি এবং কর্মীদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More