নজরে আবারও আন্তর্জাতিক বাজারের কাঁচা তেলের দাম। বৃহস্পতিবারের বড়সড় দামের বৃদ্ধির পর শুক্রবারও ব্যারেলপিছু ১০০ ডলারের উপরে রয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড। ফলে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা ফের জোরালো হয়েছে। যদিও শুক্রবার, ২ অক্টোবর, দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল-ডিজেলের দামে কোনও পরিবর্তন করেনি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফরে ভারতের এসসিও কোঅর্ডিনেটর, কী বলছে পাক বিদেশ মন্ত্রক?
শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পৌঁছেছে প্রায় ১০২.৬১ ডলারে। আমেরিকার বাজারে WTI ক্রুডও বেড়ে হয়েছে ৯৩.১২ ডলার প্রতি ব্যারেল। আগের দিনে ব্রেন্টের দাম ৪ ডলারেরও বেশি বেড়েছিল। ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভালো সম্পর্ক, তবু প্রতি বৈঠকেই প্রশ্ন মোদীর! ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কী বললেন পুতিন
কেন এতটা বাড়ছে তেলের দাম? এর পিছনে বড় কারণ পশ্চিম এশিয়ার চলতি উত্তেজনা। ইরানকে ঘিরে আমেরিকার সামরিক তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। একই সঙ্গে চিন পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বিশ্ব বাজারে পেট্রোল, ডিজেল এবং বিমান জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে আশঙ্কা আরও বড়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ এই জলপথ। সেখানে কোনও বড় ধরনের হামলা বা যাতায়াতে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। হরমুজ দিয়ে যাওয়া একটি ট্যাঙ্কারকে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত করেছে বলে খবর এসেছে। ঘটনার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এখনও স্পষ্ট নয়।
{{/usCountry}}বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে আশঙ্কা আরও বড়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ এই জলপথ। সেখানে কোনও বড় ধরনের হামলা বা যাতায়াতে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। হরমুজ দিয়ে যাওয়া একটি ট্যাঙ্কারকে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত করেছে বলে খবর এসেছে। ঘটনার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এখনও স্পষ্ট নয়।
{{/usCountry}}এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম যত বাড়বে, ভারতের তেল আমদানির খরচও তত বাড়বে। তার সঙ্গে টাকার দর যদি ডলারের তুলনায় দুর্বল থাকে, তা হলে চাপ আরও বাড়ে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় মুদ্রা ৯৬.৩১ টাকা প্রতি ডলারে নেমেছিল, যা প্রায় দু’মাসের মধ্যে দুর্বলতম স্তর।
তবে এখনই পাম্পে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে না। দিল্লিতে শুক্রবারও পেট্রোল ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.২০ টাকা লিটারে অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরেও দাম আপাতত স্থির। কলকাতায় ১ অক্টোবর পেট্রোলের দাম ছিল ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেল ৯৯.৮২ টাকা প্রতি লিটার।
সমস্যা অন্য জায়গায়। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম বাড়লেও দেশের খুচরো জ্বালানির দাম একই থাকায় তেল সংস্থাগুলির উপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। ICRA-র হিসাবে, পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম না বাড়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা করে ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ফলে এখন বড় প্রশ্ন, তেলের দাম কত দিন ১০০ ডলারের উপরে থাকে। উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গাড়ির জ্বালানি থেকে পরিবহণ খরচ, পণ্য পরিবহণ এবং বাজারদরের উপরও পড়তে পারে। আপাতত তাই পাম্পে স্বস্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের দিকে নজর রাখতেই হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।