Success Story: ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল, স্কুল ছাড়েন, সেই ছেলেই আজ ৪,০০০ কোটি টাকার কোম্পানির মালিক
Success Story: ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করে স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই ছেলেই আজ ৪,০০০ কোটি টাকার কোম্পানির মালিক। অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কীভাবে এত বড় সাম্রাজ্যের মালিক হলেন তিনি?
Success Story: একটি মাত্র পরীক্ষার মার্কশিট কখনও কোনোওমানুষের জীবনের চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। জীবনের চরম প্রতিকূলতা ও ব্যর্থতাকে জয় করে কীভাবে সাফল্য পাওয়া যায়, তার এক অনন্য ষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কেরলমের পি সি মুস্তফা। একসময় যিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফেল করে বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছিলেন, আজ তিনি ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিশ্ববিখ্যাত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও গ্লোবাল সিইও।

স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পর যখন মুস্তফার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্কুলের এক শিক্ষক। তিনি মুস্তফাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনেন এবং নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার জন্য প্রবল সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগান। তারপর দিনরাত এক করে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন মুস্তফা।
তার ফলাফলও মেলে। স্কুলে ভালো ফলাফল করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এনআইটি ক্যালিকট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। আইআইএম বেঙ্গালুরু থেকে সাফল্যের সঙ্গে এমবিএ সম্পন্ন করেন তিনি।
বিলাসবহুল আন্তর্জাতিক চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি
এনআইটি ও আইআইএম-এর মতো নামজাদা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর মুস্তফার সামনে খুলে গিয়েছিল সাফল্যের দিগন্ত। তিনি আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বহুজাতিক আইটি সংস্থায় চাকরি পান। কিন্তু নিজের কিছু করার স্বপ্ন থেকেই লাখ-লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে একসময় ভারতে ফিরে আসেন।
৫০ বর্গফুটের রান্নাঘর থেকে ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’-এর জন্ম
২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর একটি অতি ক্ষুদ্র দোকান এবং মাত্র ৫০ বর্গফুটের একটি ছোট্ট রান্নাঘর থেকে মুস্তফা ও তাঁর চার তুতো ভাইয়ের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’ (iD Fresh Food)। বাজারে ঘুরে মুস্তফা লক্ষ্য করেছিলেন যে, দোকানে যেসব ইডলি ও দোসার ব্যাটার বিক্রি হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এবং তাতে স্বাদ ও সংরক্ষণের জন্য নানা ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ মেশানো থাকে।
মুস্তফা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি কোনও রাসায়নিক ছাড়া ১০০ শতাংশ খাঁটি, প্রাকৃতিক এবং একদম ঘরে তৈরি স্টাইলের তাজা খাবার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন। শুরুর দিনগুলোতে মুস্তফা নিজেই স্কুটারে করে বেঙ্গালুরুর অলিগলির দোকানে দোকানে ঘুরে ইডলি-দোসার ব্যাটারের প্যাকেট সরবরাহ করতেন।
বিশ্বমঞ্চে ৪,০০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য
যে উদ্যোগ একসময় ৫০ বর্গফুটের এক ছোট্ট রান্নাঘরে মাত্র ৫ জন মানুষকে নিয়ে শুরু হয়েছিল, তা আজ এক বিশাল আন্তর্জাতিক কর্পোরেট সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ‘আইডি ফ্রেশ ফুড’ প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ কেজিরও বেশি তাজা ইডলি ও দোসার ব্যাটার প্রস্তুত করে, যা প্রতিদিন সকালে ভারতের লক্ষ লক্ষ পরিবারের প্রাতরাশের টেবিলে পৌঁছে যায়। শুধু ভারতেই নয়, আজ দুবাই, আমেরিকা, ওমান-সহ বিশ্বের ১০টিরও বেশি দেশে আইডি ফ্রেশ ফুডের গুণমান ও স্বাদের ডঙ্কা বাজছে।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


