PM Narendra Modi: 'প্যাথেটিক ভিডিও!' PM মোদীর মাঝরাতের বার্তাকে তীব্র কটাক্ষ বিরোধীদের, তোপ রাহুলের
PM Narendra Modi: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তাকে তীব্র কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবিকে এভাবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
PM Narendra Modi: মেডিক্যাল প্রবেশিকা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভের মুখে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আড়াই মাস ধরে চলতে থাকা বিতর্ক ও দিল্লির রাজপথে টানা আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও বার্তায় বিশেষ প্রতিশ্রুতির কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট করা ভিডিও বার্তা ঘিরে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলি।

ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শুক্রবার ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে একটি খসড়া বিল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিরোধী নেতারা। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলতে থাকা আন্দোলনের আবহে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনও প্রস্তাবে তাঁরা শান্ত হবেন না।
কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী?
বৃহস্পতিবার মাঝরাতের ওই ভিডিও বার্তায় পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেগপ্রবণ সুরে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ বিষয় বা সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও বেদনাদায়কতা। সেই কারণেই গত আড়াই মাসে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।’ দোষীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না স্পষ্ট জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দোষীদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা এখন জেলে। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব ছিল যাতে এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও ছাত্রছাত্রীদের একটি বছরও নষ্ট না হয়। সেই কারণেই দ্রুত পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুক্রবার কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে এবং এনটিএ-র মতো সংস্থায় আমূল সংস্কার আনতে অত্যন্ত কড়া একটি নতুন খসড়া বিলে অনুমোদন দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তা সংসদে দ্রুত পাশ করানোর চেষ্টা করবে সরকার। এর আগে দিল্লি হাইকোর্টও প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ জারি করেছিল।
রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও বার্তাকে তীব্র কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবিকে এভাবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী লেখেন, শিক্ষার্থীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে। অথচ সেই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মধ্যরাতে একটি 'প্যাথেটিক ভিডিও' প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, 'শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করবেন না। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করুন, ছাত্রদের উপর হামলাকারীদের শাস্তি দিন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান।'
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ভিডিওটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, 'যখন সংসদ অধিবেশন চলে, তখন প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিতে হয়, গভীর রাতে ভিডিও রেকর্ড করে সংসদের বাইরে একতরফা ‘মন কি বাত’ করা নয়!!' প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘোষণাকে ‘ফাঁপা প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। একটি ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘গত রাতে ১২টার সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সোমবার সংসদে একটি বিল আনা হবে, যার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। এই আশ্বাস কতটা ফাঁপা, তা গতকালই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে সিবিআই আদালতে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি এ ধরনের তদন্তই করতে হয়, যদি আদালতে দেখানোর মতো কোনও প্রমাণই না থাকে, তাহলে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট নাটক কেন?’ দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও বলেছেন, 'মানুষের মধ্যে কথা চলছে যে মোদীজি এখন ভয় পেয়েছেন।' 'ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা চলছে। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করা হবে এবং তদন্ত চলাকালীন প্রধান পদত্যাগ করবেন। আর সোমবারের মধ্যে যন্তর মন্তরকে মুক্ত করা হবে,' তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় ককরোচ জনতা পার্টি। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও এক্স-এ একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করে সরকারের প্রস্তাবিত আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
E-Paper

