বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন মার্কিন রাজনীতিক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক তুলসি গ্যাবার্ড। তাঁর মতে, আমেরিকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় পারমাণবিক ‘বিপদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান। গ্যাবার্ডের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে আমেরিকা ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
তুলসি গ্যাবার্ডের বিস্ফোরক মন্তব্য

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বা রাজনৈতিক আলোচনায় তুলসি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে পাকিস্তানের পারমাণবিক ভাণ্ডার এবং সেই দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমেরিকার জন্য চরম উদ্বেগের কারণ। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র যদি কোনওভাবে চরমপন্থী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে পড়ে, তবে তা কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে। গ্যাবার্ডের এই আশঙ্কা অমূলক নয় বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
কেন পাকিস্তানকে ‘বিপজ্জনক’ মনে করছেন গ্যাবার্ড?
গ্যাবার্ডের বক্তব্যের পেছনে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি কাজ করছে। প্রথমত, পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা। সেই দেশে সরকার ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এবং দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় থাকা একাধিক জঙ্গি সংগঠন। তুলসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগারের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
ট্রাম্পের নীতি ও গ্যাবার্ডের অবস্থান
{{/usCountry}}ট্রাম্পের নীতি ও গ্যাবার্ডের অবস্থান
{{/usCountry}}ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগামী হিসেবে পরিচিত তুলসি গ্যাবার্ডের এই মন্তব্যকে অনেকেই ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ বিদেশনীতির একটি আগাম বার্তা হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প তাঁর আগের শাসনকালে পাকিস্তানের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেছিলেন এবং দেশটিকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সাহায্যও কমিয়ে দিয়েছিলেন। গ্যাবার্ডের এই সাম্প্রতিক সুর চড়ানো প্রমাণ করে যে, ট্রাম্প যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তবে পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার নীতি আরও কঠোর হতে পারে।
ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব
তুলসির এই মন্তব্যে ভারতের অবস্থান পরোক্ষভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ভারত দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদে তাদের মদত নিয়ে সরব হয়েছে। তুলসির মতো একজন প্রভাবশালী মার্কিন ব্যক্তিত্ব যখন একই সুরে কথা বলেন, তখন তা পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে একটি বড় অন্তরায়, তা আবারও প্রমাণিত হল।
বিশ্ব নিরাপত্তা ও আমেরিকার ভূমিকা
তুলসি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার উচিত তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে আমেরিকা পাকিস্তানের ওপর যে পরিমাণ বিশ্বাস বা বিনিয়োগ করেছে, তার সঠিক প্রতিদান মেলেনি। বরং পাকিস্তান দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করে বারবার আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হেনেছে। গ্যাবার্ডের মতে, এখন সময় এসেছে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব সহকারে বিচার করার এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।