Iran-US War effect on Pakistan: ধুঁকছে অর্থনীতি! ইরান-মার্কিন যুদ্ধে 'দেউলিয়া' পাকিস্তান, চরম বিপাকে শাহবাজ

Iran-US War effect on Pakistan: শাহবাজ শরিফের দাবি, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা ‘ম্যারাথন’ বৈঠক হয়েছে।

Published on: Apr 30, 2026, 23:47:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Iran-US War effect on Pakistan: দীর্ঘস্থায়ী ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তান। বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, গত দুই বছরে পাকিস্তান আর্থিক ক্ষেত্রে যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, ইরান-মার্কিন যুদ্ধে তা ব্যাপক ভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি স্থাপনের প্রয়াস পাকিস্তান চালিয়ে যাবে।

ইরান-মার্কিন যুদ্ধে 'দেউলিয়া' পাকিস্তান (AP)
ইরান-মার্কিন যুদ্ধে 'দেউলিয়া' পাকিস্তান (AP)

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানের অর্থনীতি পর্যালোচনা করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, সংঘাতের আগে পাকিস্তানের তেল আমদানির খরচ যেখানে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছিল, তা বেড়ে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার কমেছে। এক সরকারি বিবৃতি অনুসারে, শাহবাজ জানিয়েছেন, টাস্ক ফোর্স প্রতিদিন পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাঁচতে সংঘাত থামাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি এবং উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে শাহবাজ বলেন, ইসলামাবাদ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রসারে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা

মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিবেশে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। শাহবাজ শরিফের দাবি, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা ‘ম্যারাথন’ বৈঠক হয়েছে। কিন্তু বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। তবে শাহবাজ দাবি করেছেন, এই প্রচেষ্টার ফলে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং তা এখনও বহাল রয়েছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। তবে, দ্বিতীয় বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছেন, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর প্রতিনিধিদল নিয়ে পাকিস্তান সফর করেছেন এবং তার সঙ্গে দুই ঘণ্টার একটি বৈঠকে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আরাঘচি আশ্বাস দিয়েছেন মস্কো ও মাস্কাট সফরের পর ইরান তার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টেলিফোনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, যাতে তেহরান শান্তির প্রস্তাব তৈরির পর্যাপ্ত সময় পায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জেরে সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তান এখন দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজন করে দ্রুত এই সংঘাত মেটাতে বদ্ধপরিকর, যাতে নিজেদের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙ্গা করা সম্ভব হয়।