Pakistan Health Sector Update: আইসিইউতে নেই জায়গা, ভেন্টিলেটর না পেয়ে মৃত্যু পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিকের

সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটরের তীব্র অভাবের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা মিলছে না। আইসিইউ-র প্রায় সমস্ত ভেন্টিলেটর সবসময়ই ভর্তি থাকায় নতুন রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেই অপেক্ষার মধ্যেই অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Published on: Jul 27, 2026, 10:35:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Pakistan Health Sector Update: পাকিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকট ফের প্রকাশ্যে এল রাজধানী ইসলামাবাদে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটরের তীব্র অভাবের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা মিলছে না। আইসিইউ-র প্রায় সমস্ত ভেন্টিলেটর সবসময়ই ভর্তি থাকায় নতুন রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেই অপেক্ষার মধ্যেই অনেক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক আবিদ রজা কাজমির মৃত্যুর পর এই সংকট আবারও জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটরের তীব্র অভাবের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা মিলছে না।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে ভেন্টিলেটরের তীব্র অভাবের কারণে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা মিলছে না।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর আবিদ রজা কাজমিকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস)-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে তখন আইসিইউ-র ১২টি ভেন্টিলেটরই অন্য রোগীদের দখলে ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিলেও তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদের দুটি বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল—পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) এবং পলিক্লিনিক হাসপাতাল—দুটিই ভেন্টিলেটর সংকটে ভুগছে। পিমসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. রানা ইমরান সিকান্দার জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিভিন্ন আইসিইউ-তে ৯০টিরও বেশি ভেন্টিলেটর থাকলেও প্রায় সবসময়ই সেগুলি ব্যবহৃত অবস্থায় থাকে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন রোগীদের ভেন্টিলেটর দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে পলিক্লিনিক হাসপাতালের মুখপাত্র ড. আবদুল জব্বার ভুট্টো জানিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালে থাকা ৩৫টি ভেন্টিলেটরও সারাক্ষণ রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনও ভেন্টিলেটর খালি না থাকায় বহু সংকটজনক রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অথবা অন্য হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, এই পরিস্থিতির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। পিমস হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছিল এমন সময়ে, যখন ইসলামাবাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি। বর্তমানে এই হাসপাতালকে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় পরিকাঠামো, শয্যাসংখ্যা, আইসিইউ সুবিধা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত সম্প্রসারণ হয়নি।

এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। আইসিইউ-তে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় তিন লক্ষ পাকিস্তানি রুপি পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় বহন করা অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীরাও বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করছেন, যার ফলে সেখানে চাপ আরও বাড়ছে।

চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, শুধু ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভেন্টিলেটর পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ছাড়া অতিরিক্ত যন্ত্র বসিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়ন, জনবল নিয়োগ এবং সরকারি স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না হলে পাকিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই সংকট আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More