Pakistan Linked Arrests in Assam: অসমে বড়সড় জঙ্গি দমন অভিযান, পাকিস্তান-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার ৩
২৪ জুলাই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো, নতুন সদস্য নিয়োগ, নজরদারি চালানোর মতো জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার মতো নানা কাজে সক্রিয় ছিল বলে সন্দেহ।
পাকিস্তানভিত্তিক একটি সন্দেহভাজন জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (এসবিএন)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা অভিযানে জেলা পুলিশেরও সহযোগিতা ছিল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ জুলাই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনলাইন উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো, নতুন সদস্য নিয়োগ, নজরদারি চালানো, অস্ত্র সংগ্রহ, লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, স্লিপার সেল গড়ে তোলা এবং জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার মতো নানা কাজে সক্রিয় ছিল বলে সন্দেহ।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর নির্দেশে কাজ করত বলে অভিযোগ। পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই চক্রের সদস্যদের যোগাযোগ হত বলেও দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই নেটওয়ার্কের কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
এসটিএফের দাবি, নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রাখতে এই নেটওয়ার্ক একাধিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করত। তদন্তে খালিস্তান আর্মড ফোর্স (KAF), পাঞ্জাব সোভারেনটি অ্যালায়েন্স (PSA), খালিস্তান লিবারেশন আর্মি (KLA), শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড (SPB), ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড (USB), শিখ টাইগার্স অফ খালিস্তান (STK) এবং তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (TTH)-এর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, সীমান্তপারের যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক কাঠামো আড়াল করতেই এই সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করা হত।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (TTH) চলতি বছরে পাঞ্জাব পুলিশের দুই কর্মীকে লক্ষ্য করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিল। গত ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৪ মে সংঘটিত ওই দুই ঘটনার পর থেকেই এই নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিশেষভাবে সতর্ক ছিল।
অসমে এই নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ প্রথম নজরে আসে নলবাড়ি জেলার একটি তদন্তে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই গত ২২ মে এক সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিক তদন্ত এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধুবড়ি, চিরাং ও বরপেটায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
এই অভিযানে ধুবড়ির বেপারিপাড়ার ২৬ বছরের আক্রমুল ইসলাম, চিরাং জেলার পানবাড়ির ধুপিরির ২২ বছরের আমিনুর রহমান এবং বরপেটার কালগাছিয়ার দাবান্দিয়ার ৫৪ বছরের আবদুল হুসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন ধৃতদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, সাতটি সিম কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, ডেবিট কার্ড এবং তদন্তকারীদের মতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলিকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসটিএফ জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, আর কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এর শাখা-প্রশাখা রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


