Abraham Accords: US-র বড় ধাক্কা! ট্রাম্পের প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ পাকিস্তানের, কেন বেঁকে বসল ইসলামাবাদ?
Abraham Accords: মূল আব্রাহাম চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০২০ সালে মধ্যস্থতা করে করিয়েছিলেন। এই চুক্তির অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদানের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়েছিল।
Abraham Accords: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান-সহ আরও কয়েকটি দেশের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের শর্ত থাকা উচিত। কিন্তু ট্রাম্পের সেই বহুল আলোচিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ কোনও অবস্থাতেই কিংবা কোনও ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে ইহুদি রাষ্ট্র ইজরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া একটি বিশেষ পোস্টে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানের পাশাপাশি পাকিস্তানকেও একসঙ্গে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানান। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের পরপরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তা সরাসরি খারিজ করে দেন। পাক সংবাদমাধ্যম সামা টিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, পাকিস্তানের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় ও মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে আমাদের কোনওভাবেই যোগ দেওয়া উচিত নয়।'
এই সময় ইজরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনের যৌক্তিকতা এবং তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইজরায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, 'যাদের মুখের কথার এক দিনের জন্যও ভরসা করা যায় না, তাদের সঙ্গে আপনি কীভাবে আলোচনায় বসবেন? আমাদের অবস্থান একদম পরিষ্কার যে এই প্রস্তাব কোনওভাবেই আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।' এদিকে পাকিস্তানি সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের বিষয় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এগুলো কোনওভাবেই ‘পরস্পর সম্পর্কিত নয়।’ একই সঙ্গে পাকিস্তান এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কোনও ধরনের অদৃশ্য চাপের মুখে নেই বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।
আব্রাহাম চুক্তি বলতে কী বোঝায়?
মূল আব্রাহাম চুক্তিটি ট্রাম্প তাঁর প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ২০২০ সালে মধ্যস্থতা করে করিয়েছিলেন। এই চুক্তির অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদানের সঙ্গে ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়েছিল। এখন তাঁর দ্বিতীয় দফায় ট্রাম্প এই চুক্তির পরিধি আরও বাড়াতে চাইছেন। ট্রাম্প জানান যে তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং জর্ডনকে একসঙ্গে এই শান্তি চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন। ট্রাম্প এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে এটাকে প্রায় বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের মতে, যদি ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে, তাহলে এই ঐতিহাসিক বিশ্বজোটে অংশ নেওয়াটা পাকিস্তান-সহ অন্যান্য দেশের জন্য একটা বড় সম্মানের বিষয় হবে।
ইজরায়েলকে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ
পাকিস্তানের এই কড়া অবস্থান অবশ্য নতুন কিছু নয়। পাকিস্তান বিশ্বের সেই হাতেগোনা দেশগুলির মধ্যে একটি, যারা ইজরায়েলকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেই স্বীকৃতি দেয় না। এমনকী পাকিস্তানি পাসপোর্টে বড় বড় করে লেখা থাকে যে 'এই পাসপোর্ট ইজরায়েল ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য বৈধ।' যদিও ট্রাম্প বাকি যে পাঁচটি দেশের (সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর এবং জর্ডন) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তারা এখনও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু এই মুসলিম প্রধান দেশগুলির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ইজরায়েলের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর অবিশ্বাসকে মাথায় রাখলে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনায় একটা বড় ধাক্কা লেগেছে।
E-Paper

