Parliament Monsoon Session: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিল, নজরে FCRA, জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন
এবারের অধিবেশনে পাঁচটি নতুন বিল এবং আগে থেকে ঝুলে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে উত্থাপন ও পাশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার এই আইন প্রস্তাবগুলির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিরোধী দলগুলিকে বিস্তারিত জানাবে।
Parliament Monsoon Session Update: জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে শুরু হতে চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর, এবারের অধিবেশনে পাঁচটি নতুন বিল এবং আগে থেকে ঝুলে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে উত্থাপন ও পাশ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার এই আইন প্রস্তাবগুলির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিরোধী দলগুলিকে বিস্তারিত জানাবে।

তবে রাজনৈতিক মহলে বহুল আলোচিত সংবিধান সংশোধনী বিল, বিশেষ করে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল, আপাতত বর্ষাকালীন অধিবেশনের সম্ভাব্য কার্যসূচিতে নেই। সরকার সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পরেই এই বিলগুলি সংসদে আনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এবারের অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিল হল ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (FCRA Amendment Bill)। গত ২৫ মার্চ লোকসভায় এই বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। বর্ষাকালীন অধিবেশনে এটি আলোচনা ও পাশের জন্য তোলা হবে। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশ থেকে ভারতে আসা অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনে আরও স্বচ্ছতা আনাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য।
এছাড়া ‘বিকশিত ভারত এডুকেশন এস্টাবলিশমেন্ট বিল, ২০২৫’-ও আলোচনায় আসবে। গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদে পেশ হওয়া এই বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) কাছে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পরই এই বিল নিয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে।
সরকার দুটি অধ্যাদেশের পরিবর্তে নতুন আইনও আনতে চলেছে। তার মধ্যে অন্যতম ইনকাম ট্যাক্স (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। সরকারের দাবি, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার মধ্যে ভারতের সার্বভৌম ঋণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বাজারে তারল্য বৃদ্ধি করাই এই বিলের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার প্রস্তাব রাখা হবে। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলার জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ বলে কেন্দ্রের দাবি।
এছাড়াও আরও তিনটি নতুন বিল সংসদে আসছে। তার মধ্যে রয়েছে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তি (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। এই বিলের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের পরে জন্ম বা মৃত্যুর নথিভুক্তির ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর ও সুসংহত করা হবে। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যে ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে বিতর্কের আবহে এই বিলের গুরুত্ব বেড়েছে।
দ্বিতীয় বিলটি হল জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত বা অন্যান্য জাতীয় প্রতীকের অবমাননার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আনার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।
তৃতীয়টি হল ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। ব্যবসা আরও সহজ করা, MSME সংস্থাগুলির বকেয়া অর্থপ্রদান দ্রুত নিশ্চিত করা এবং রাজ্যগুলিকে আরও বেশি প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিল আনা হচ্ছে।
আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের সম্পূরক অনুদানের দাবিও পেশ করবে কেন্দ্র সরকার, যা নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে, ভবিষ্যতে সরকার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে জেলে থাকা জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব এবং বহু আলোচিত ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ (One Nation, One Election) কার্যকর করার বিল। যদিও এই বিলগুলি কবে সংসদে আনা হবে, সে বিষয়ে এখনও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করেনি।
সব মিলিয়ে, এবারের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের দিক থেকেই নয়, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিরোধীদের অবস্থান এবং বিভিন্ন বিল নিয়ে সংসদে কী ধরনের বিতর্ক হয়, সেদিকেই এখন নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


