BRICS: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পর প্রথমবার! ইরান-রুশ বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ PM মোদীর, তেহরান বলল...

BRICS: ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'জোটবদ্ধ হয়ে পদক্ষেপ করার এটাই উপযুক্ত সময়, এই সব অন্যায় কাজ (মার্কিন আগ্রাসন) ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য।'

Published on: May 14, 2026 6:57 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

BRICS: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহে ভারত সফরের এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও আলাদা করে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন-ইরান সংঘাতের আবহে ভারতে শুরু হয়েছে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলির দু’দিনের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। সেই সূত্রেই ভারতে পৌঁছেছেন ইরান ও রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার, ব্রিকসের ফাঁকে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ PM মোদীর (সৌজন্যে টুইটার)
ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ PM মোদীর (সৌজন্যে টুইটার)

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রী

চলতি বছর ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। ১৪ ও ১৫ মে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকস দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে যোগ দিতেই রাশিয়া, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা ভারতে এসেছেন। এদিন রুশ ও ইরান ছাড়াও অন্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে সমবেতভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম দিন সম্মেলনে নিজের ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। তাঁর বক্তব্য, কীভাবে ইরানের উপর ‘গুন্ডামি’ চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তা গোটা পৃথিবী প্রত্যক্ষ করেছে। আরাঘাচি বলেন, 'এই কক্ষে উপস্থিত প্রায় সকলের কাছেই মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ কোনও অপরিচিত বিষয় নয়। আমাদের মধ্যে আরও অনেকেই একই ধরনের ঘৃণ্য জবরদস্তির সম্মুখীন হয়েছে।'

ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'জোটবদ্ধ হয়ে পদক্ষেপ করার এটাই উপযুক্ত সময়, এই সব অন্যায় কাজ (মার্কিন আগ্রাসন) ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য।' আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রস্তাব বারবার ভেস্তে যাওয়ায় সংঘর্ষবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো শক্তিশালী মঞ্চকে ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ইরান। যদিও ব্রিকস এখনও এই যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনও কড়া বার্তা দেয়নি, তবে তেহরান চাইছে এই জোট যেন পশ্চিমী আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও ইরান

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অঙ্গন দীর্ঘকাল ধরেই উত্তপ্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা, ‘৬০ শতাংশ।' তেহরানের এই মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সিদ্ধান্ত পশ্চিমী বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগের ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-মার্কিন সাম্প্রতিক আলোচনায় ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, এই ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তবে ইরান সেই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এই আবহে ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী জানান, ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক বিষয়ের সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটনই দাবি করেছিল, ইরান নয়। তাঁর কথায়, 'ইরান সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত ছিল, কিন্তু এর জন্য সমঝোতা প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় রাজি নয়।'