PM Narendra Modi-NEET: ‘২২ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করেছি’, মধ্য়রাতে নিট দুর্নীতি নিয়ে সরব মোদী!
PM Narendra Modi-NEET: 'আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল যাতে শিক্ষার্থীদের একটা বছর নষ্ট না হয়। তাই দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া খুবই দরকার ছিল।’ নিট-কাণ্ডে মুখ খুললেন মোদী।
নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ও দেশজুড়ে বাড়তে থাকা ছাত্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার প্রায় মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যম 'এক্স' (X)-এ ভিডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, শুক্রবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা আনা হতে চলেছে।

এদিনই কেন্দ্রীয় শিক্ষক সচিবের পদ থেকে বিনীত জোশীকে হটিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিনিয়র আইএএস কর্মকর্তা নরেশ পাল গাঙ্গোওয়ারকে। বিনীত জোশীকে আপতত পঞ্চায়েত মন্ত্রকে বদলি করা হয়েছে। এই রদবদলের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এল মোদীর নতুন বার্তা। তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে গত আড়াই মাসে একাধিক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে আগামী সোমবারে শুরু হতে যাওয়া সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন বিল পাস করানোর রোডম্যাপ তুলে ধরেন তিনি।
‘২২ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করেছি’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের একটা পুরো বছর নষ্ট হতে না দেওয়া। তিনি জানান, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বহু বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধীরা ধরা পড়েছে এবং তারা জেলে রয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল যাতে শিক্ষার্থীদের একটা বছর নষ্ট না হয়। তাই দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া খুবই দরকার ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, সরকারের পুরো শক্তি লাগিয়ে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর আবার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ১৯শে জুলাই সেই পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে এবং সারা দেশ থেকে সফল শিক্ষার্থীদের আনন্দের খবর আসছে।
রাতেই ড্রাফট তৈরি, শুক্রবারে ক্যাবিনেটে আলোচনা
শুধু রেজাল্ট প্রকাশেই যে কেন্দ্র থামবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদী। তিনি জানান, অপরাধিদের দ্রুত কঠোর সাজা দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের খসড়া (Draft) তৈরির নির্দেশ দেন।
ইন্সট্রাকশন পাওয়ার পর দপ্তরগুলি নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ড্রাফট জমা দিয়েছে। শুক্রবারের ক্যাবিনেট বৈঠক: এই ড্রাফটটি যেখানে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট এবং কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, তা নিয়ে শুক্রবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়ার পর ড্রাফটটিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।
আগামী সোমবারই সংসদে পেশ হতে পারে নতুন বিল
প্রধানমন্ত্রী মোদী নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহে (Second Week of Parliament) এই বিলটি হাউসে পেশ করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পাস করিয়ে একটি শক্তপোক্ত আইনে পরিণত করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অপরাধী পরীক্ষা ব্যবস্থার সাথে ছিনিমিনি খেলার দুঃসাহস না দেখায়।
সরকারের ওপর প্রবল চাপ ও বিরোধীদের সুর
পরীক্ষার্থীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও বিরোধীদের তোলা প্রশ্নচিহ্নের মুখে কেন্দ্র সরকার আপাতত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ ও সিজেপি-র মতো বিরোধী প্ল্যাটফর্মগুলি যখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড়, তখন প্রধানমন্ত্রীর শুক্রবারের ক্যাবিনেট বৈঠক এবং বিশেষ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


