New Education Minister: সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ! শিক্ষা মন্ত্রকের গুরুদায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী, কেন তাঁকেই বেছে নিলেন PM?
New Education Minister: বর্তমানে প্রহ্লাদ যোশী ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া থেকে স্পষ্ট, সংকটের সময় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপরই ভরসা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
New Education Minister: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে বিতর্ক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রকের ভার দিয়েছেন। রবিবার দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন প্রবীণ নেতা প্রহ্লাদ যোশী।প্রশাসনিক মহলের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে প্রহ্লাদ যোশী ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া থেকে স্পষ্ট, সংকটের সময় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপরই ভরসা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় কৌশল এবং প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য প্রহ্লাদ যোশী দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা, বিতর্ক পরিচালনা এবং জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রকে যোগ দিয়েই তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমত, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র পরীক্ষাপদ্ধতির সংস্কার। সাম্প্রতিক বিতর্কের পর পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা চালুর গতি বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা সামনে আসতে পারে। দ্বিতীয় বড় কাজ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধে কঠোর আইন কার্যকর করা। সম্প্রতি পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে কঠোর শাস্তির বিধান নিয়ে যে নতুন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব এসেছে, তার বাস্তবায়নের দিকেও নজর রাখতে হবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে। এছাড়াও, দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনাস্থা দূর করা অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রেখে জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা সংস্কারের কাজও থেমে থাকার সুযোগ নেই। জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অ্যাক্রেডিটেশন সংস্কার এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের মতো প্রকল্পগুলির অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে।
কে এই প্রহ্লাদ যোশী?
১৯৬২ সালের ২৭ নভেম্বর কর্ণাটকের বিজয়পুরায় (পূর্বতন বিজাপুর) সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রহ্লাদ যোশী। ভারতীয় রেলে কাজ করতেন তাঁর বাবা। ছোটবেলাতেই তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে কর্ণাটকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজের মাধ্যমেই তাঁর জনসেবার দীর্ঘ সফর শুরু। হুবলির রেলওয়ে স্কুল এবং নিউ ইংলিশ স্কুলে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি ধারওয়াড়ের কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কড়সিদ্ধেশ্বর আর্টস কলেজ থেকে কলাবিভাগে স্নাতকের ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্র জীবন থেকেই ধার বাড়তে থাকে রাজনৈতিক জীবনের। ২০০৪ সাল থেকে টানা কর্ণাটকের ধারওয়াড় লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ এই প্রহ্লাদ যোশী। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভায় সংসদীয় বিষয়ক, কয়লা এবং খনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের জুন মাসে তিনি ক্রেতাসুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন এবং নবীন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব পান। এছাড়াও তিনি কর্ণাটক বিজেপির জেলা ও রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রহ্লাদ যোশীকে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে— রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন অগ্রাধিকার। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রক কত দ্রুত পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ভবিষ্যতের জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা দেশের।
E-Paper

