'Godman' Arrested: ইলেকট্রিক শক, প্রস্রাব পানে বাধ্য করা! যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার পুনের স্বঘোষিত গডম্যান
'Godman' Arrested: পুনের ওয়াঘোলির উবালেনগরের একটি বাংলোকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। বাইরে থেকে সাধারণ বাড়ি মনে হলেও, পুলিশের দাবি সেই বাড়ির ভেতরেই চলছিল এক স্বঘোষিত গুরুর আশ্রম। আর সেই আশ্রমকে ঘিরেই সামনে এসেছে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ।
'Godman' Arrested: মহারাষ্ট্রের পুনের এক স্বঘোষিত গুরুকে ঘিরে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এক আইটি কর্মী দাবি, প্রায় পনেরো বছর ধরে তিনি মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত এবং তাঁর সাত সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে একাধিক হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ, নগদ অর্থ, গয়না। শুধু তাই নয়, ওই স্বঘোষিত গুরুর ডেরা থেকে একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের সন্ধানও মিলেছে।

পুনের ওয়াঘোলির উবালেনগরের একটি বাংলোকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। বাইরে থেকে সাধারণ বাড়ি মনে হলেও, পুলিশের দাবি সেই বাড়ির ভেতরেই চলছিল এক স্বঘোষিত গুরুর আশ্রম। আর সেই আশ্রমকে ঘিরেই সামনে এসেছে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। এই ঘটনায় পুনে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মূল অভিযুক্ত ৫৯ বছর বয়সি রাধামোহন মিশ্র এবং তাঁর সাত সহযোগী। ওই সাত জনের মধ্যে ৬ জনই মহিলা। অভিযুক্ত মিশ্র হরিয়ানার বাসিন্দা। গত প্রায় আট বছর ধরে তিনি পুনের ওই এলাকায় আশ্রম চালাচ্ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। ওই আইটি কর্মী জানিয়েছেন, প্রায় পনেরো বছর ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের মাধ্যমে রাধামোহন মিশ্রের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। প্রথমে স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ধীরে ধীরে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যেরা ওই ব্যক্তির প্রভাবে চলে যান। ওই মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্ত নিজেকে ঈশ্বরের অবতার বলে দাবি করতেন এবং সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তাঁর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে বারবার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জোর করে প্রস্রাব পান করানো, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া এবং স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর দাবি। আরও অভিযোগ, নিজের সম্পত্তির একটি অংশ অভিযুক্তের নামে লিখে দেওয়ার জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। বহুবার পরিবারের কাছে নির্যাতনের কথা জানালেও প্রথম দিকে তাঁকে বিশ্বাস করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। পরে আশ্রম থেকে বেরিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের সবকিছু জানানোর পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁর অভিযোগ পাওয়ার পরই পুনে পুলিশ গভীর রাতে আশ্রমে অভিযান চালায়। সেই অভিযানে রাধামোহন মিশ্র-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা আশ্রম থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিন সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার হয়েছে ১৯টি হার্ড ডিস্ক, ১২টি ল্যাপটপ, একটি ট্যাবলেট, ১১টি মোবাইল ফোন, ২৩টি পেন ড্রাইভ, একাধিক ডিভিডি ও সিডি। এর পাশাপাশি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার গয়না এবং প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এছাড়া ১০টি বুলেট পাওয়া গেলেও কোনও আগ্নেয়াস্ত্র মেলেনি।
তদন্তে আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, বাংলোটির নিচে একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ চলছিল। সেই সুড়ঙ্গের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি পালানোর রাস্তা হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল কিনা, নাকি অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে সেখানে আরও কোনও তথ্য বা অন্য কোনও সম্ভাব্য নির্যাতনের প্রমাণ রয়েছে কিনা। রাধামোহন মিশ্র এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং মহারাষ্ট্রের অমানবিক ও কুসংস্কারমূলক কার্যকলাপ রোধ সংক্রান্ত আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
E-Paper

