Punjabi Woman Murdered in Canada: কানাডায় পঞ্জাবি তরুণীর মর্মান্তিক হত্যা, খুনের অভিযোগে ধৃত প্রেমিক

পরিবারের দাবি, মেয়ের অকাল মৃত্যু তাঁদের ভেঙে দিয়েছে। শেষবারের মতো দামনপ্রীতকে নিজের দেশে ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিবহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং শেষকৃত্যের বিপুল খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

Published on: Jul 25, 2026, 12:57:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টনে এক ভারতীয় তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সমরালা এলাকার বাসিন্দা ২৩ বছরের দামনপ্রীত কৌরকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সঙ্গী ঋতিশ কুমারের বিরুদ্ধে। এডমন্টন পুলিশ ইতিমধ্যেই ২২ বছর বয়সি ঋতিশকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ দায়ের করেছে।

দামনপ্রীতের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনতে সাধারণ মানুষ যেন আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
দামনপ্রীতের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনতে সাধারণ মানুষ যেন আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

এডমন্টন পুলিশ সার্ভিস (ইপিএস)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিট নাগাদ সিলভারবেরি এলাকার একটি বাড়ি থেকে এক গুরুতর আহত ও অচৈতন্য তরুণীর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ। সেখানে পৌঁছে তারা দামনপ্রীত কৌরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সময়ে ঘটনাস্থল থেকেই এক যুবককে আটক করা হয়, যিনি পরে ঋতিশ কুমার বলে পরিচিত হন।

হাসপাতালে তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১২ জুলাই দামনপ্রীতের মৃত্যু হয়। এরপর তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ১৪ জুলাই এডমন্টনের মেডিক্যাল এক্সামিনারের দফতর জানায়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে তদন্তের স্বার্থে মৃত্যুর সঠিক কারণ প্রথমে প্রকাশ করা হয়নি।

অবশেষে ২৩ জুলাই পুলিশ জানায়, দামনপ্রীতের মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধের ফলে। তদন্তে উঠে এসেছে, এটি পারিবারিক বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি হত্যার ঘটনা। এরপর ২২ জুলাই ঋতিশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্য কোনও সন্দেহভাজনের খোঁজ তারা করছে না।

এই ঘটনার পর কানাডা ও ভারতের পঞ্জাবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি, মেয়ের অকাল মৃত্যু তাঁদের ভেঙে দিয়েছে। শেষবারের মতো দামনপ্রীতকে নিজের দেশে ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিবহণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং শেষকৃত্যের বিপুল খরচ বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

সেই কারণেই অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান বা ‘গোফান্ডমি’ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। সেখানে আবেদন জানানো হয়েছে, দামনপ্রীতের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনতে সাধারণ মানুষ যেন আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৯ হাজার ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০ হাজার ডলার।

ঘটনাটি সামনে আসতেই প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে থাকা ভারতীয় ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণীদের নিরাপত্তা এবং সম্পর্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া হিংসার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

এডমন্টন পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আদালতে যথাযথ প্রমাণ পেশ করা হবে। অন্যদিকে, পরিবার চাইছে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দামনপ্রীতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যেও হিংসা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More