Rahul Gandhi: ‘সন্ত্রাসবাদীদের মুখ...,’ CBSE-র বিতর্কের মধ্যেই বিশেষ পড়ুয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ রাহুল গান্ধীর
Rahul Gandhi: কংগ্রেস নেতা এক্স-এ বার্তা বলেন, ‘আমার সহকর্মী ‘দেশবিরোধী সোরোস এজেন্টদের’ সঙ্গে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হল। বেদান্ত ও তার বন্ধুরা মেধাবী ও সাহসী তরুণ ভারতীয়, যারা সিবিএসই এবং মোদী সরকারের কাছে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন তুলেছিল।'
Rahul Gandhi: দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া বেদান্ত শ্রীবাস্তব। সবে মাত্র বহির্পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে তার। কিন্তু এখনই যেন সমাজের কালো দিকটা তার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বেদান্তর দাবি ছিল, সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থবিদ্যা পরীক্ষার যে উত্তরপত্র তার বলে দেখানো হচ্ছে, সেটা আদৌ তার নয়। তার পোস্ট ভাইরাল হতেই ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় তাকে। জোটে ‘পাকিস্তানি’ তকমাও! যদিও পরে সিবিএসই-র তরফে জানানো হয়, বোর্ড এই ভুলের জন্য দুঃখিত। এই আবহে রবিবার সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন বেদান্তও। এই বৈঠকে তাঁরা দুজনেই তাঁদের বিরুদ্ধে অনবরত ব্যবহার করা বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য নিয়ে কথা বলেন। রাজনীতি বা অন্য কোনও কারণে তাঁদের যেভাবে 'দেশবিরোধী', কিংবা 'পাকিস্তানি' বলে আক্রমণ করা হয়, সেই পরিচিত কটাক্ষগুলো নিয়েই মূলত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন তাঁরা।

নিজেদের 'সোরোস এজেন্ট' বলে কটাক্ষ করার বিষয়টিকে রাহুল গান্ধী এবং বেদান্ত স্রেফ হেসেই উড়িয়ে দেন। আসলে এই মন্তব্যের ইঙ্গিতে রয়েছেন হাঙ্গেরীয়-আমেরিকান বিনিয়োগকারী জর্জ সোরোস, যাঁর বিরুদ্ধে ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ যে-তিনি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে বিভিন্ন 'বামপন্থী এজেন্ডায়' বিপুল টাকা ঢালছেন। রবিবার ৯০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, বেদান্ত, তার দাদা এবং বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন পড়ুয়ার উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী প্রশ্ন করেন, 'তোমাদেরও কী 'সন্ত্রাসবাদী' বলা হতো? আমাকে একটু খুলে বলো! জবাবে বেদান্তের দাদা সিদ্ধান্ত শ্রীবাস্তব হেসে উঠে বলেন, 'হ্যাঁ, একদমই তাই!' তিনি আরও বলেন, সিবিএসই-র ভুলত্রুটি নিয়ে যখন ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছিল, তখন 'আমাদের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য… তারা [সমালোচকরা] রটিয়ে দিয়েছিল যে, আমরা নাকি ‘ভারতে অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টায় যুক্ত কিছু ডিপ স্টেট এজেন্ট।'
পড়ুয়াদের মুখে এই মন্তব্য শুনে রাহুল গান্ধীও নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেননি। তিনি ঠাট্টার ছলে উপস্থিত ক্যামেরাম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'মাত্র সতেরো বছর বয়সি ‘ডিপ স্টেট এজেন্ট’! এদের মুখগুলো একটু ক্যামেরায় ভালো করে দেখান... দেখান তো, এই তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদীদের’ মুখগুলো কেমন দেখতে হয়!' পাশাপাশি, তিনি নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। কংগ্রেস নেতা এক্স-এ বার্তা বলেন, ‘আমার সহকর্মী ‘দেশবিরোধী সোরোস এজেন্টদের’ সঙ্গে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হল। বেদান্ত ও তার বন্ধুরা মেধাবী ও সাহসী তরুণ ভারতীয়, যারা সিবিএসই এবং মোদী সরকারের কাছে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু উত্তর পাওয়ার বদলে তারা অপমান ও কটূক্তির শিকার হয়েছে।'
বিতর্কের সূত্রপাত
বিতর্কের সূত্রপাত বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক ছাত্রের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ছাত্রটি অভিযোগ করে, সিবিএসই-র নতুন ‘অনলাইন স্ক্রিপ্ট মনিটরিং’ সিস্টেমের মাধ্যমে সে তাঁর পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রের যে কপি হাতে পায়, তা আদতে অন্য কোনও ছাত্রের। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই নিজের রেজাল্ট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ওই পড়ুয়া। এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘সারা বছর পড়াশোনা করলাম। ঘুম, মনের শান্তি, ঘুরতে যাওয়া সব কিছু পরীক্ষার জন্য ত্যাগ করেছিলাম। আর এখন আমি বুঝতে পারছি না, আমার আসল পরীক্ষার খাতাটা কোথায় গেল। পড়ুয়াদের কী এটাই প্রাপ্য?’ তাঁর এই পোস্ট ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় শিক্ষা মহলে। এরপরই ওই পড়ুয়া ট্রোলিংয়ের শিকার হয়। তাকে ‘দেশদ্রোহী’, ‘পাকিস্তানি’র মতো নানা অভিধায় ‘ভূষিত’ করে নেটপাড়ার একাংশ। যদিও অনেকে তাকে সমর্থনও করেন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সিবিএসই দ্রুত নড়েচড়ে বসে। বোর্ডের যুগ্ম সচিব (সমন্বয়) স্বয়ং বেদান্তকে ইমেল করে ভুল স্বীকার করে নেন এবং তাঁর সঠিক পদার্থবিজ্ঞানের উত্তরপত্রটি পাঠিয়ে দেন। পাশাপাশি জানানো হয়, খুব শীঘ্রই নতুন করে মূল্যায়ন করে তাঁর রেজাল্ট আপডেট করা হবে। পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি রসায়নের উত্তরপত্র সংক্রান্ত আরও একটি অভিযোগ সামনে আসে। সিবিএসই সেখানেও ত্রুটি স্বীকার করে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
E-Paper

