'ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর'! বিক্রম বত্রার ডায়লগ ধার করে বড় বার্তা রাজনাথের
কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে লাদাখের দ্রাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, আজ ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৬৫ শতাংশ দেশেই তৈরি হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এখন আমরা শুধু নিজেদের প্রয়োজনই মেটাচ্ছি না, বহু দেশেও প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি করছি।
কার্গিল বিজয় দিবসের মঞ্চ থেকে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার সাফল্য তুলে ধরে বড় বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৬৫ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে। আকাশতীর (Akashteer), প্রচণ্ড (Prachanda), তেজস (Tejas) যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত (INS Vikrant)— একের পর এক উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আত্মনির্ভর ভারতের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে দেশ। তবে এই সাফল্যেই থেমে থাকতে রাজি নন তিনি। কার্গিলের বীর শহিদ ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রার অমর উক্তি ‘ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর’ ডায়লগ ধার করে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী ভারতীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার বার্তা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে লাদাখের দ্রাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, আজ ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৬৫ শতাংশ দেশেই তৈরি হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এখন আমরা শুধু নিজেদের প্রয়োজনই মেটাচ্ছি না, বহু দেশেও প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি করছি।
তিনি বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সেনাবাহিনীর হাতে একের পর এক দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আকাশতীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, প্রচণ্ড লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার, তেজস হালকা যুদ্ধবিমান এবং ভারতের প্রথম স্বদেশি বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত-এর কথা। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি শুধু ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই প্রমাণ নয়, আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নেরও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তবে এই সাফল্যে সন্তুষ্ট নন রাজনাথ সিং। তিনি কার্গিলের বীর শহিদ ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রার বিখ্যাত সংলাপ ‘ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর’ স্মরণ করে বলেন, এটাই ভারতীয় সেনাদের চরিত্র। যত সাফল্যই আসুক, আরও এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ তাঁদের মধ্যে সবসময় থাকে। গোটা বিশ্বের, বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশেরও এই মানসিকতা বোঝা উচিত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার কখনও অভাব ছিল না। অতীতে যদি কোনও ঘাটতি থেকে থাকে, তা ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছার। বর্তমানে সেই অভাব নেই বলেই দাবি তাঁর। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে উঠে আসে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির কথাও। তাঁর মতে, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর ফলে একদিকে যেমন বিদেশের উপর নির্ভরতা কমছে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারেও ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
কার্গিল বিজয় দিবসে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগই আজকের শক্তিশালী ভারতের ভিত গড়ে দিয়েছে। সেই উত্তরাধিকারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। ইয়ে দিল মাঙ্গে মোর— ক্যাপ্টেন বিক্রম বত্রার এই অমর আহ্বানকে সামনে রেখেই ভারত আরও শক্তিশালী, আরও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে এগিয়ে যাবে বলেই বার্তা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


