CBSE Class 12 Board Examination 2026: ৯৫% থেকে একলাফে ১০০%! পুনর্মূল্যায়নে ২৪ নম্বর বেড়ে CBSE দ্বাদশে টপার অবনী

CBSE: এই সাফল্যের পর অবনী কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে ইংরেজি একটি বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের বিষয় হওয়ায় পূর্ণ নম্বর পাবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

Published on: Jun 23, 2026, 16:24:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CBSE: প্রথম ফল প্রকাশের সময় নম্বর নিয়ে কিছুটা হতাশা ছিল। কিন্তু নিজের প্রস্তুতির উপর আস্থা হারাননি রাঁচির ছাত্রী অবনী কেজরিওয়াল। আর সেই আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাঁকে এনে দিল বিরল সাফল্য। পুনর্মূল্যায়নের পর চলতি বছর সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ৫০০ নম্বর পেয়ে দেশসেরা হলেন অবনী কেজরিওয়াল।

CBSE দ্বাদশ শ্রেণিতে দেশসেরা রাঁচির অবনী কেজরিওয়াল (সৌজন্যে টুইটার)
CBSE দ্বাদশ শ্রেণিতে দেশসেরা রাঁচির অবনী কেজরিওয়াল (সৌজন্যে টুইটার)

রাঁচির দিল্লি পাবলিক স্কুল (ডিপিএস) এসএআইএল টাউনশিপের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী অবনী কেজরিওয়াল দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় প্রথমে ৯৫.২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। ফলাফলে পরিবার সন্তুষ্ট হলেও, ইংরেজি বিষয়ে ১৯ এবং ব্যবসা শিক্ষা বিষয়ে ৫ নম্বর কম দেওয়া হয়েছে বলে ওই পড়ুয়ার মনে হয়েছিল। সেই কারণে তিনি পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেন। পুনর্মূল্যায়নের পর ইংরেজি ও ব্যবসা শিক্ষা মিলিয়ে মোট ২৪ নম্বর বৃদ্ধি পায়। ফলে ইংরেজি, অ্যাকাউন্টেন্সি, ব্যবসা শিক্ষা, অর্থনীতি এবং ফলিত গণিত- এই পাঁচটি মূল বিষয়ে তিনি ১০০-র মধ্যে ১০০ নম্বর পান। অতিরিক্ত বিষয় গ্রাফিক্সে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯৯।

এই সাফল্যের পর অবনী কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে ইংরেজি একটি বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের বিষয় হওয়ায় পূর্ণ নম্বর পাবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তাঁর কথায়, 'যখন ফলাফল ঘোষণা করা হলো, আমি আমার প্রাপ্ত নম্বরে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলাম না। আমার মনে হয়েছিল, উত্তরগুলো আরেকবার পর্যালোচনা করা প্রয়োজন এবং সারা বছর ধরে আমি যে পরিশ্রম করেছি, তার ওপর আমার আস্থা ছিল।' পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর অবনী ও তাঁর পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা নিয়েই উচ্চশিক্ষা নিতে চান অবনী। তিনি স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে পড়াশোনা করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। পরবর্তীতে বাবার ব্যবসাকে আধুনিক এবং আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁর।

অবনীর এই সাফল্যে গর্বিত স্কুল কর্তৃপক্ষও। ডিপিএস রাঁচির অধ্যক্ষ জয়া চৌহান বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে সংবর্ধনা দেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অবনীর অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া চৌহান বলেন, 'ওর সাফল্য শুধু ডিপিএস রাঁচিকেই গর্বিত করেনি, বরং অগণিত ছাত্রছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করেছে।' রাঁচির এক ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে অবনী কেজরিওয়াল। তাঁর বাবা মিতেশ কেজরিওয়াল ভোজ্য তেলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা পূনম কেজরিওয়াল গৃহবধূ। পরিবারের সদস্যদের মতে, ছোটবেলা থেকেই অবনী অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং লক্ষ্যনিষ্ঠ। নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং বিষয়গুলি গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাই তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষামহলের মতে, অবনীর এই সাফল্য শুধু মেধার জয় নয়, নিজের প্রাপ্য নম্বরের জন্য সঠিক প্রক্রিয়ায় লড়াই করারও এক অনন্য উদাহরণ। প্রথম ফল প্রকাশের হতাশা কাটিয়ে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশসেরা হওয়ার এই ঘটনা বহু পরীক্ষার্থীকেই নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।